SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু। মঙ্গলবার দুপুরে রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগ তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। জানা গিয়েছে গত ৪-৫ বছর ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। গ্রুপ-সি গ্রেডে চাকরিও হারাতে হয়েছিল বৃষ্টিকে। তারওপর ছিল তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ মামলা। সবমিলিয়েই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি। তার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় কে?

রামপুরহাটে কুসুম্বা গ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামারবাড়ি হিসেবে পরিচিত। তাঁর মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বৃষ্টি। নীহার রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় একটি স্কুলে গ্রুপ সি-র চাকরি করতেন বৃষ্টি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরুর পরেই তিনি চলে আসেন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। কেন্দ্রীয় সংস্থার পেশ করা নথি বলছে, গ্রুপ সি পরীক্ষার এমআর শিটে ৯০ শতাংশই গরমিল ছিল। প্রাথমিকভাবে দুর্নীতি করে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নাম জড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির। পরবর্তীকালে আইনি প্রক্রিয়ায় পরেই তাঁর চাকরিটি চলে যায়।

কী করে মৃত্যু?

মঙ্গলবার দুরুপে কুসুম্বা গ্রামে বৃষ্টির নিজের বাড়ির দোতলায় বারান্দায় গলায় কাপড়ের ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় রামপুরহাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে পাঠান হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত হবে ঘোষণা করা হয়। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মানসিক অবসাদে বৃষ্টি!

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ গত ৪-৫ বছর ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি। একদিকে চাকরি হারানোর দুঃখ, অন্যদিকে দাম্পত্য সমস্যা। গত কয়েক দিন ধরে নিজের ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বাইরে যায়নি বৃষ্টি। বৃষ্টির আত্মীয়দের কথায়, 'ও ডিপ্রেশনে ছিল। চিকিৎসা চলছিল। নিজের ঘরে একাই থাকতো বৃষ্টি। সারাদিন নিজের ঘরে একা একাই থাকতো বৃষ্টি।' তিনি আরও বলেছেন, আজ সকাল থেকেই ঘরের বাইরে তেমনভাবে বার হয়নি বৃষ্টি। তিনি আরও বলেছেন, চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলা- সব ধকল নিতে পারেনি বৃষ্টি। তবে সঠিক কারণ কি- তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও জানিয়েছেন বৃষ্টির আত্মীয়।