শেষ দফার ভোটের দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে অভিযোগ করেন যে পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে 'টেরোরিজম' চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে সমস্ত ভোট বিজেপিতেই পড়ছে।

আজ বুধবার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের চেতলাক বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকে বলেন, ভোট কেমন চলছে, কোন বুথের কী পরিস্থিতি এই সব জানতেই তিনি ফিরহাদ হাকিমের বাড়ি যান। তবে এই প্রথম। ভোটের দিন সকাল সকাল সচরাচর বেরিয়ে পড়েন না তিনি। সাধারণত দুপুর ২ টোর পরই বেরোতে দেখা যেত তাঁকে। কিন্তু, আজ বুধবারের চিত্রটা একেবারে আলাদা।

দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখতে দেখা গেল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপর কয়েকটি বুথ পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর করলেন বিশেষ অভিযোগ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরা পোস্টার, ‘ব্যানার সব ছিঁড়ে দিচ্ছে। এভাবে ভোট হয় নাকি। টেরোরিজম চলছে।’

আবার চেতলার বুথে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আদালত অবমাননার নোটিস দিয়েছি। তা সত্ত্বেও কিছু অবজার্ভার এসেছে বাইরে থেকে। বিজেপি যা বলছে তাই করছে। চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে দেখে এসো আমাদের সব পোস্টার খুলে দিয়েছে। এভাবে ভোট হয়? ভোট তো মানুষ দেবেন, পুলিশও নয়, সিকিওরিটিও নয়। আর কয়েকজনকে নতুন এনেছে। তারা যা ইচ্ছে করছে। এলাকায় সন্ত্রাস করছে।’

এদিকে আবার ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও সকালে বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছেন। দাবি করেন, ‘সব ভোট বিজেপিতে পড়ছে।’

২৯ এপ্রিল অর্থাৎ আজ শেষ দফা ভোট। আজ ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। আর শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। এই পর্বে ভোট আছে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়ায়।

কলকাতায় মোট আসন ১১টি। হাওড়ায় আছে ১৬ কেন্দ্র। তেমনই উত্তর ২৪ পরগনাতে আছে ৩৩টি কেন্দ্র। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে আসন ৩১ টি। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৬টি আসন। নদিয়া জেলায় আসন ১৭টি। হুগলি জেলায় আসন ১৮টি।