গোটা দেশ কুর্ণিশ জানাচ্ছে বাংলার মেয়েকে।  জলপাইগুড়ির অ্যানি দত্ত চক্রবর্তীর মাথায় উঠল মিস ইন্ডিয়ার খেতাব।

কথায় বলে মেহনতে সোনা ফলে। সোনা ফলিয়েই ছাড়লেন বাংলার রূপান্তরকামী। অনুপ্রেরণা হয়ে উঠলেন দেশের লক্ষ রূপান্তরকামীর কাছে। জলপাইগুড়ির অ্যানি দত্ত চক্রবর্তীর মাথায় উঠল মিস ইন্ডিয়ার খেতাব।

ট্রান্স ইন্ডিয়া খেতাব জিতে দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে বুধবার জলপাইগুড়ি পৌঁছলেন অ্যানি দত্ত চক্রবর্তী। অ্যানির সঙ্গে ছিলেন স্বামী সাগ্নিক চক্রবর্তী। এদিন ভারতসুন্দরী বৌমাকে স্বাগত জানাতে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে হাজির হয়েছিলেন শ্বাশুড়ি মৌসুমী চক্রবর্তী, দেওর সায়ক এবং আত্মীয়পরিজনেরা। পদাতিক এক্সপ্রেস থেকে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে নামতেই বৌমাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নিল পরিবারের সদস্যরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কথায় কথায় যাত্রাপথের চড়াই উৎরাইয়ের গল্প বললেন অ্যানি। মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া হওয়ার এই যাত্রা পথ মোটেই মসৃন ছিল না তাঁর কাছে। কর্তৃপক্ষের তরফে মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের প্রস্তাব আসার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রম। প্রথমেই অ্যানিকে শরীরের ওজন কমানোর জন্য খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে হয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে প্রিয় খাবারগুলি বাদ পড়ে। খাবারের তালিকা তৈরি করে দিয়েছিলে পুষ্টিবিদরা। প্রতিযোগিতার কয়েক দিন আগে থেকে পানীয় জলের পরিমাণও স্থির করে দেওয়া হয়েছিল। গত দেড় মাসে ৭ কেজি ওজন কমাতে হয়েছে তাঁকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য।

এই ধরনের প্রতিযোগিতায় খুঁটিয়ে দেখা হয় স্মার্টনেস, প্রতিযোগীর নার্ভের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা। বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করা হয় প্রতিযোগীকে। ফলে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে অ্যানিকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করার জন্যেও। চলেছে রাত জেগে পড়াশোনা। 

অ্যানি জানাচ্ছেন, র‌্যাম্পে ক্যাটওয়াক করার অভিজ্ঞতা তার কখনও ছিলনা। ছয় ইঞ্চি হিল জুতো পরে র‌্যাম্পে ক্যাটওয়াক করার প্রশিক্ষণ নিতে তাঁকে গত দেড় মাসে একাধিক বার ছুটে যেতে হয়েছে কলকাতায়।

এত কিছু করেও জয়ের ব্যাপারে কোনও বাড়তি আশা ছিল না অ্যানির। তাঁর নিজের কথায়, "সারা দেশ থেকে ১০০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। বাংলা থেকে আমি একাই ছিলাম সেখানে। প্রথম দিকে কিছুটা হলেও নার্ভাস ছিলাম। পরে যত কঠিন হতে শুরু করল প্রতিযোগিতা ততই জেদ চেপে গেল। এর পরে আমার লক্ষ্য মিস ট্রান্স ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং সুডেনের মধ্যে যে কোনও একটি দেশে এই প্রতিযোগিতা হবে। আগামী অক্টোবর মাস নাগাদ এই প্রতিযোগিতা হবে। দেশের হয়ে আমি সেই প্রতিযোগিতায় যাব, এটা ভাবতে পেরে আমি এখনই খুব উচ্ছ্বসিত।"

অ্য়ানিই জানালেন, এই প্রতিযোগিতায় সফল হওযার পরেই তাঁর কাছে কলকাতার এক পরিচালক ফোন করে বাংলা সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। কারণ ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখা ও বিদেশে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যাওয়ার প্রস্তুতি তাঁর মূল লক্ষ্য। 

বাংলার এক জেলার মেয়ের এই উড়াল ভবিষ্যতে গোটা দেশের রূপান্তরকামীদের প্রেরণা দেবে, এমনটাই প্রত্যয় সকলের।