কোভিডের মাঝেই দোকানের ভিতর নার্সিংহোম  যাবতীয় বেআইনি কাজ চালাচ্ছেন ভুয়ো চিকিৎসক মুদিখানা দোকানের ভিতরেই চলছে শল্য চিকিৎসা  বৈধ শংসাপত্র-নথি কিছুই নেই বলেই অভিযোগ  

জাল চিকিৎসকের রমরমা কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের।চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে চলছে রীতিমতো ছেলে-খেলা। একদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সারা দেশ ও রাজ্যের জুড়ে যখন ত্রাহি ত্রাহি রব। আর তারই মধ্যে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদের রানিতলা এলাকায় লেন্স বন্দী হল এক চরম বিপদজনক ছবি। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন, আজই রাজ্যে আসছে ৪ লক্ষ ভ্যাকসিন, কোভিড রুখতে কোভিশিল্ড পাঠাচ্ছে কেন্দ্র 


দিব্যি ডাক্তার সেজে আস্ত রাস্তার পাশের ফুটপাতের ওপর কোনরকমে কাঠের টেবিল বেঞ্চ জোড়া লাগিয়ে মোবাইল ডাক্তার-খানা খুলে চলছে চিকিৎসা পরিষেবা। এখানেই শেষ নয়। রীতিমতো গ্রামের নানান ধরনের রোগীদের হাতের মধ্যে স্যালাইনের চ্যানেল করে দিয়ে শল্য চিকিৎসাও করা হচ্ছে একই সঙ্গে। আশ্চর্যজনকভাবে পুরো ঘটনাই দিনের আলোয় প্রকাশ্যে হয়ে চলেছে স্থানীয় নসিপুর হাই স্কুল মোড় সংলগ্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে । আর এই যাবতীয় বেআইনি কাজ কর্ম যিনি চালাচ্ছেন সেই স্বঘোষিত ভুয়া ডাক্তার এলাকায় মোঃ রশিদ খান নামে পরিচিত। যার কোনও রকম চিকিৎসাশাস্ত্র সংক্রান্ত কোনো রকম বৈধ শংসাপত্র থেকে শুরু করে নথি কিছুই নেই বলেই অভিযোগ। 

আরও পড়ুন, রাজ্য়ে ভয়াবহ কোভিডে মৃত্যু প্রায় ১০০, সংক্রমণে শীর্ষে কলকাতা 


আর এই সব কিছুই হচ্ছে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে খোলা রাস্তার ওপর মুখে কোনও রকমের মাস্ক, ফেস শিল্ড ছাড়াই।ফলে যেকোন মুহূর্তে হু হু করে করণা সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়া এলাকায় কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকা সূত্রে জানা যায়, কোনরকমে বিএ পাস করা মোঃ রশিদ বংশপরম্পরায় বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এলাকায় মুদিখানার দোকানের মত আকারের একটি ওষুধের দোকান চালিয়ে আসছে। এমনকি সেই দোকানে ড্রাগ লাইসেন্স তো দূরের কথা সামান্যতম ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। এই অবস্থায় এলাকার বিডিও মঙ্গলবার ওয়াসিদ খান এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ওই ভুয়ো চিকিৎসকের দোকানে গিয়ে হানা দেয়।

আরও পড়ুন, কোভিড রুখতে শহরে চালু ২৫ বেড সহ নয়া 'অক্সিজেন পার্লার', উদ্ধোধন করলেন ফিরহাদ হাকিম

 তারপরেই প্রাথমিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এই বিপদজনক কাজ। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক উৎপল মজুমদার।পরবর্তীতে পুরো বিষয়টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে বলেই তারা জানান। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এইভাবে বিপজ্জনকভাবে চলে আসা জাল ডাক্তারি চালানোর ঘটনা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম শেখ, মুজিবুর রহমানেরা বলেন," আমরা গরীব মানুষ অত কিছু বুঝি না তাই এতদিন ধরে কম পয়সায় যা চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে এসেছে তাই সঠিক বলে নিয়ে এসেছি"।