Rakhi Bandhan Festival: সারা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও অন্যতম সামাজিক উৎসব হল রাখিবন্ধন। এই বিশেষ দিনে শুধু ভাই-বোনের মধ্যেই নয়, বিভিন্ন বয়স ও সম্পর্কের মানুষের মধ্যেই রাখিবন্ধনের মাধ্যমে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করতে দেখা যায়। এবার রাজ্যের একাধিক প্রান্তে অভিনব রাখিবন্ধন দেখা গেল।
KNOW
Rakhi Bandhan 2026: গাছের সঙ্গে বন্ধন আরও দৃঢ় করার বার্তা দিয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের অযোধ্যা কালীদাসী বিদ্যানিকেতন। বৃহস্পতিবার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা বালুরঘাট-অযোধ্যা রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন গাছে রাখি বেঁধে এই বিশেষ কর্মসূচি পালন করে। এদিন দিয়া, নন্দিতা, রিমি, শম্পা, রাজ, সুজিত ও দেবজিৎ-সহ পড়ুয়ারা সাইকেলে করে রাস্তার ধারে গাছগুলির কাছে পৌঁছয়। এরপর গাছের গায়ে রাখি বেঁধে তাদের রক্ষা করার বার্তা দেয় পড়ুয়ারা। কর্মসূচিতে গাওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটিও। রাখিবন্ধন উৎসবের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকার কথা তুলে ধরে গাছের সঙ্গে মানুষের বন্ধনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা পরিবেশকর্মী তুহিনশুভ্র মণ্ডল। তিনি জানান, একসময় বালুরঘাট-অযোধ্যা রাস্তার পাশে বহু গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠত। তাঁদের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচির ফলে বর্তমানে গাছ কাটার ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে তাঁর দাবি।
পরিবেশ রক্ষার বার্তা
শিক্ষক তুহিনশুভ্র বলেন, ‘গাছের সঙ্গে পড়ুয়াদের বন্ধুত্ব যাতে আরও দৃঢ় হয়, সেই কারণেই রাখিবন্ধনের এই উদ্যোগ। গাছ শুধু পরিবেশের অংশ নয়, আমাদের জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তাই গাছকে রক্ষার দায়িত্ব সকলের।' পড়ুয়াদের এই উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গাছের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার বার্তাও উঠে আসে।
বাঁকুড়াতেও গাছের গায়ে রাখি
বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের পাশাপাশি বাঁকুড়ার সোনামুখী উত্তর চক্রের ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মদনপুর জয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা রাখিবন্ধনের পবিত্র দিনে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধনের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গেও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিনব বার্তা দিল। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রাখিবন্ধন উৎসবের পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন বৃক্ষকে রাখি পরিয়ে পালিত হল ব্যতিক্রমী ‘বৃক্ষ রাখিবন্ধন’ অনুষ্ঠান। অভিনব এই আয়োজনে বিদ্যালয় চত্বর হয়ে ওঠে আনন্দ, সম্প্রীতি ও পরিবেশ সচেতনতার মিলনস্থল। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেড়ে ওঠা আম, জাম, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, বকুল, কদম, জুঁই, অশোক, সবেদা, হরিতকি, মহুয়া, তেজপাতা, দেবদারু, জামরুল-সহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষকে রাখি পরিয়ে দেয় ছাত্র-ছাত্রীরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়, একটি বৃক্ষ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির সুরক্ষা এবং মানুষের সুস্থ জীবনের ক্ষেত্রেও বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি গাছকে ঘিরে অসংখ্য প্রাণের অস্তিত্ব নির্ভর করে। তাই বৃক্ষকে ভালোবাসা এবং সংরক্ষণ করা প্রত্যেকের সামাজিক দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দময় ঘোষ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের পুঁথিগত শিক্ষা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সৌভ্রাতৃত্ববোধ, দেশাত্মবোধ এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করাও আমাদের কর্তব্য। বর্তমানে মানুষের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের পাশাপাশি প্রকৃতিও দূষণের ভারে বিপর্যস্ত। তাই রাখিবন্ধনের মতো একটি আবেগঘন উৎসবকে আমরা মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির বন্ধনের বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি।’
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


