পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হয়নি। মায়ের কাছে বকুনি খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল ভাই-বোন।  ট্রেনে এক কলেজ ছাত্রীর তৎপরতায় রক্ষা পেল তারা। দু'জনকেই উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে আরপিএফ।  বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুর স্টেশনে।

আরও পড়ুন: বোনকে স্কুলে দিতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, খড়্গপুরে চাইনিজ মাঞ্জার বলি কিশোর

ঘড়িতে তখন সকাল ৭টা ৫০।  মাঝেরহাট থেকে রানাঘাটগামী লোকাল ট্রেনটি সবেমাত্র বেলঘড়িয়া স্টেশনে ঢুকেছে। এক কলেজ ছাত্রীর নজরে পড়ে, কামরায় এক কোণা গুটি-সুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে দু'জন শিশু।  বয়স মেরেকেটে সাত কিংবা আট। তাদের সঙ্গে ট্রেনে আর কাউকে না দেখে সন্দেহ হয় ওই কলেজছাত্রীর। তিনি জানিয়েছেন, যখন কথা বলতে যান, তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে দু'জনেই। ট্রেন বারাকপুর স্টেশন পৌঁছালে, কর্তব্যরত আরপিএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ওই দুই শিশুকে নিজেদের হেফাজতের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন আরপিএফ আধিকারিকরা। 

আরও পড়ুন: অবশেষে চাঁদ ছুলেন বামন দম্পতি, দাম্পত্য জীবনের ১০ বছর বাদে সন্তান

জানা যায়, ওই দুই শিশু সম্পর্কে ভাই-বোন। থাকে কলকাতার বড়বাজার এলাকায়। মঙ্গলবার পরীক্ষা রেজাল্ট বেরিয়েছে তাদের। কিন্তু রেজাল্ট ভালো হয়নি।  সেকারণে মায়ের কাছে বকুনি খেতে হয় দু'জনকেই।  বুধবার সকালে মনের দুঃখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভাই-বোন। কিছু না বুঝে বড়বাজার স্টেশন থেকে রানাঘাটগামী লোকাল ট্রেনে উঠেও পড়ে তারা। গোটা ঘটনাটি জানার পর ওই দু'জন শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ব্যারাকপুর স্টেশনের আরপিএফ আধিকারিকরা।  ব্যারাকপুর স্টেশন গিয়ে দুই সন্তানকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান পরিবারের লোকেরা। আরপিএফ আধিকারিক ও যিনি ট্রেনে প্রথম ওই দু'জন শিশুকে দেখতে পেয়েছিলেন, সেই কলেজছাত্রীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।