মৌলিককান্তি সাহা, নদিয়া-কালীপুজোর দিন সদূর কাশ্মীর থেকে নদিয়ায় তেহট্টে পৌঁছেছিল মর্মান্তিক খবর। বাংলার জওয়ান সুবোধ ঘোষ পাক সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন। কাশ্মীরে জওয়ানের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল তেহট্টের রঘুনাথপুর গ্রাম। শোকাচ্ছন্ন গ্রামে দীপাবলির প্রদীপ জ্বলেনি সেদিন। অবশেষে কাশ্মীর থেকে তেহট্টে পৌঁছল নিহত জওয়ানের কফিনবন্দি দেহ। ভাইফোঁটাতেও উৎসবের আমেজ বিলীন হল তেহট্টে।

আরও পড়ুন-আজ ভাইফোঁটা, সকাল থেকেই জেলার মিষ্টির দোকানগুলিতে ভিড় ক্রেতাদের

কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তান সেনার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন। শুক্রবার কালীপুজোর দিন  রাতে কাশ্মীরে চারটি সেক্টরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল পাক সেনা। তাংধার, উরি, গুরেজ ও কেরন সেক্টরে পাক সেনার গুলি বর্ষণে চারজন ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলার নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা সুবোধ ঘোষ। রবিবার রাতে সুবোধের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছয় তেহট্টের গ্রামের বাড়িতে।

আরও পড়ুন-প্রসূতি মৃত্যু ঘিরে নার্সিংহোমে ধুন্ধুমার-কাণ্ড, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের লাঠি

গ্রামে শহিদের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাক সেনার ঘৃণ্য আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানায় তেহট্টবাসী। রবিবার রাতে কড়া পাহারার মধ্যে রঘুনাথপুর গ্রামে পৌঁছায় নিহত সুবোধ ঘোষের দেহ। এদিন রাত বারোটা নাগাত গ্রামে পৌঁছয় সুবোধের নিথর দেহ। তাঁকে শেষ দেখা দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর, সুবোধ যেখানে পড়াশুনা করত, সেই স্কুলের মাঠে গান স্যালুট দিয়ে শেষশ্রদ্ধা জানানো হয়।  নদিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয়। এরপর, পলাশির শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় শহিদ জওয়ানের।