হরিশ্চন্দ্রপুরে আরও ৩ জনের করোনা পজিটিভ। শুক্রবার ৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ ছিল। সূত্রের খবর, শনিবার আরও ১২৩ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। তাতে ৩ জনের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছে। এরাও অজমের ফেরত মহেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে একইসঙ্গে আক্রান্ত ৭ জন। সূত্রের খবর, এদের মধ্য়ে দুজনের বয়স ১৫, ১৬। অন্যজনের ২৪। 

আরজি কর হাসপাতালের নার্সের শরীরে মিলল করোনার জীবাণু, কোয়ারেন্টাইনে আরও ১০.

দিন কয়েক আগেই আজমেঢ় শরিফ থেকে শ্রমিক ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনিতে এসে নামেন মালদহের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা অন্তত কয়েক শ মানুষ। এরপর এদের বাসে করে মালদহে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মালদহে বাস পৌঁছতেই এঁদের সকলেরই সোয়াব টেস্ট করা হয়। এরপর এই সব মানুষজনকে নিজ নিজ এলাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এলাকার আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হওয়ার জন্য। 

শ্রমিকদের ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে না মমতার প্রশাসন, চিঠি দিলেন ক্ষুব্ধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী.

জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লকের একটি দল মালদহ থেকে ফিরে এসে হরিশ্চন্দ্রপুর আইটিআই কলেজে-র কোয়ারান্টাইনে ঢুকে পড়েছিলেন। এতে অন্তত শখানেক লোক ছিলেন। কিন্তু, হরিশ্চন্দ্রপুরের কোয়ারান্টাইন সেন্টারে একসঙ্গে এত লোকের থাকার বন্দোবস্ত ছিল না। ফলে বহু মানুষ আইসোলেশনে না থেকে বাড়িতে চলে যান। শুক্রবার সকালে সোয়াব টেস্টের ফল আসতেই দেখা যায় যে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের চারজন করোনা পজিটিভ। যাদের মধ্যে ২ জন মহিলা এবং ২ জন পুরুষ। এদের সকলেরই বয়স ২৪ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। 

মাত্র ৫০০ টাকাতেই করোনা পরীক্ষা, দেড় ঘন্টায় রিপোর্ট জানাবে কলকাতার এই সংস্থার টেস্ট কিট.

করোনা রিপোর্টে এই চারজনের পজিটিভ হওয়ার খবর আসতেই এঁদের পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নেয়। এরপর এদের মালদহের নারায়ণুরের কোভিড চিকিৎসার জন্য তৈরি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। জানা গিয়েছে এই চারজনই আজমেঢ় শরিফে তীর্থ করতে গিয়েছিলেন। লকডাউন শুরু হলে এঁরা আটকে পড়েছিলেন।  এই চারজন করোনা আক্রান্তকে ধরে মালদহে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ ছুঁল। যদিও এঁদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে। 

রবিবার অন্তত ১৭০০ পরিযায়ী শ্রমিককে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেন মালদহে পৌঁছবে। এই ট্রেনটি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আসছে। ফলে, করোনা প্রকোপ নিয়ে এখন মালদহে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, যে ৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে তাঁরা সকলেরই ট্র্যাভেল হিস্ট্রি রয়েছে। মালদহে বসবাস করছিলেন অথচ জেলার বাইরে পা রাখেননি তেমন কোনও মানুষের শরীরে এখনও করোনাভাইরাস মেলেনি।

ফলে করোনার ভাইরাসে আক্রান্তরা অন্যরাজ্য থেকে মালদহে প্রবেশ করায় রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে, যে চারজনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গিয়েছে এরা সকলেই একই ট্রেনে কলকাতায় এসেছেন এবং পরে বাসে করে মালদহে। এই সফরকালে এই চারজন একাধিক মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। ফলে, ভাইরাসের আক্রমণে যে আরও মানুষের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে তা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।