জোর জল্পনা, তৃণমূলে এবার বেশ কয়েকজন বিধায়ক টিকিট পাচ্ছেন না। মালদা, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হুগলি, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মত জেলায় বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে প্রার্থী হিসাবে দেখা যেতে পারে।
TMC Candidate List: আগামী সপ্তাহেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) দিন ঘোষণা হতে পারে। আর ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ পেলেই শুরু হবে বিভিন্ন দলের প্রার্থী তালিকার ঘোষণা। এবার সবার নজরে রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থীপদ নিয়ে। রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিতে চলেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। আর তার মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই জোড়া ফুলে টিকিটে লড়ার বহু দাবিদার। জোর জল্পনা, তৃণমূলে এবার বেশ কয়েকজন বিধায়ক টিকিট পাচ্ছেন না। মালদা, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হুগলি, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মত জেলায় বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে প্রার্থী হিসাবে দেখা যেতে পারে। গত কয়েকবারের মত টলিউড তারকা, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদেরও টিকিট দেওয়া হতে পারে।
কারা টিকিট পাবেন
তৃণমূল সূত্রের খবর,২৯৪টি আসনের জন্য প্রার্থীদের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলেই এটি তৈরি করা হয়েছে। এবার তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার বড় মাপকাঠি হতে চলেছে দলীয় আনুগত্য়, মমতা-অভিষেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। কলকাতায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে একটা জল্পনা বেশ গতি পাচ্ছে। তা হল বালিগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। বালিগঞ্জ থেকে সরানো হতে পারে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসে রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া গায়ক বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)-কে। বাবুলকে আসানসোলের কোনও এক বিধানসভায় আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে।
বালিগঞ্জে কেন প্রার্থী বদলের পথে তৃণমূল
সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর ২০২২ সালে হওয়া বালিগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হয়েছিলেন বাবুল। তবে বাবুল জিতলেও বালিগঞ্জে তৃণমূলের মার্জিন বেশ কমে গিয়েছিল। এক বছর আগে হওয়া নির্বাচনে যেখানে সুব্রত মুখোপাধ্য়ায় প্রায় ৭১ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন, সেখানে বাবুলের জয়ের মার্জিন কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩০ হাজারে। বালিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে 'দলবদলু' বাবুলকে নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাবুল জিতলেও বালিগঞ্জের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে লিড নিয়েছিলেন বাবুলের প্রতিপক্ষ সিপিএমের সায়রা শাহ হালিম। বাবুলকে নিয়ে দলের নিচু তলার অসন্তোষ বুঝতে পেরে বালিগঞ্জ থেকে তাঁকে সরানো হতে পারে।
রাসবিহারি থেকে ভবানীপুর, তারপর খড়দা...
জোর জল্পনা, বাবুলের পরিবর্তে অভিজ্ঞ শোভন দেব চট্টোপাধ্য়ায়কে বালিগঞ্জে টিকিট দিতে পারেন দিদি। রাসবিহারী থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর বিধায়ক ছিলেন এখন ৮১ বছরের শোভনদেব। ১৯৯৮ থেকে ২০২১, ৬বার রাসবিহারী থেকে বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন মমতার পছন্দের শোভন দা। বাম আমলেও তিনি সেখান থেকে 'হাসতে হাসতে' জিততেন।
খড়দায় তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন কোনও যুব নেতা
কিন্তু রাসবিহারীতে এখন দাপট দেবাশীষ কুমারের। দেবাশীষকে রাসবিহারী থেকে বালিগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শোভনদেবকে বালিগঞ্জে দাঁড় করানো হতে পারে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে হারিয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন শোভনদেব। কিন্তু নন্দীগ্রামে হারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে বিধানসভায় নিয়ে যেতে ভবানীপুর থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এই অভিজ্ঞ নেতা। এরপর খড়দায় প্রয়াত কাজল সিনহা-র জায়গায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে তৃণমূল। এবার খড়দা থেকে বালিগঞ্জে আনা হতে পারে শোভনদেবকে। খড়দায় এবার দলের কোনও যুব নেতাকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল।
প্রশ্ন বেহালা পশ্চিম নিয়ে
বালিগঞ্জের পাশাপাশি বেহালা পশ্চিমে তৃণমূলের টিকিটে কে দাঁড়াবেন তা নিয়ে জোর জল্পনা। বেহালার এই কেন্দ্র থেকে ২০০১ থেকে টানা পাঁচটি নির্বাচনে জিতেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন জেল খাটায় পার্থর সঙ্গে তৃণমূলের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়েছে। পার্থ জামিনে ছাড়া পেলেও দল তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, খুব সম্ভবত বেহালা পশ্চিমে এবার সেখানকার কোনও জনপ্রিয় কাউন্সিলরকে প্রার্থী করা হতে পারে। গতবারের মত বেহালা পূর্বে রত্না চট্টোপাধ্যায়কেই দাঁড় করানো হতে পারে। যদিও বেহালা পূর্ব থেকে টিকিট চেয়ে এখন বেশ দৌড়ঝাঁপ করছেন সেখানকার বেশ কয়েকজন দাপুটে কাউন্সিলররা।


