Tmc Sahid Diwas 2026: সকলেই শহিদ স্মরণে পালন করতে চাইছে ২১ জুলাই। কিন্তু কোন পার্টির সমাবেশে যাচ্ছেন শহিদদের পরিবার? কী বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল বনাম ঋতব্রতের তৃণমূল? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Tmc Sahid Diwas 2026: একুশে জুলাই শহিদ সমাবেশে শহিদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানাতে হাজির কংগ্রেস,ঋতব্রত তৃণমূল,কালীঘাট তৃণমূল। তবে শহিদের দাদার আস্থা মমতাতেই। ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাইটার্স অভিযানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর।সেই তেরো জনের মধ্যে একজন ছিলেন হুগলির সাহাগঞ্জের অসীম দাস।

শহিদ দিবস নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে শিবির ভাগ-

অসীমের পরিবার প্রতিবছর একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ সমাবেশে উপস্থিত হতেন। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে টুকরো হয়েছে।কালীঘাট তৃণমূল বনাম ঋতব্রত তৃণমূল। এন সি পি আই তৃণমূল প্রত্যেকেই একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালন করবে বলে জানিয়েছে।

পাশাপাশি জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এবারে বড় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাই সেদিন যারা শহিদ হয়েছিলেন তাদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে পৌঁছে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। কয়েকদিন আগে কালীঘাট তৃণমূলের দোলা সেন অসীম দাসের বাড়িতে এসে অসীমের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়ে যান। এরপর আসেন ঋতব্রত তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি সন্তোষ সিং।

জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রীতম ঘোষ এবং জেলা সভাপতি সুব্রত মুখোপাধ্যায় অসীম দাসের মাকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ করে যান। কংগ্রেস নেতা প্রীতম ঘোষ জানান, কংগ্রেস কখনো শহিদদের ভোলেনি। একুশে জুলাই প্রত্যেকটা পার্টি অফিসে শহিদ স্মরণ করা হয়েছে। আমরা অসীমের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি ঐদিন উপস্থিত থাকার জন্য।

ঋতব্রত তৃণমূলের নেতা সন্তোষ সিং বলেন, ‘’আমাদের শহিদ সমাবেশ হবে। সেখানে যাবার আমন্ত্রণ জানিয়েছি অসীমের পরিবারকে।'' অসীমের দাদা শিবু দাস বলেন, ‘’এই দিনটা এলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। প্রতিবার যাই এবারও যাবো। দল ক্ষমতায় নেই কিন্তু এই বিভাজন মেনে নিতে পারছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দিয়ে আলাদা একটা দল করা এটা মেনে নেওয়া যায় না। বন্দ্যোপাধ্যায় তেত্রিশ বছর আমাদের পাশে থেকেছেন। যাইহোক ওনার সঙ্গেই আমরা থাকবো।'' 

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পালিত হয়ে আসছে ২১ জুলাই শহিদ দিবস। এতদিন ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের মোড়ে সভা করতেন তিনি। কিন্তু পালাবদলের পর বিজেপি জমানায় এবার ধর্মতলার মোড় পর্যন্ত পৌঁছতেই পারলেন না মমতা। বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন অব্যাহত। দিন যত এগোচ্ছে, ততই শক্তি হারাচ্ছে মমতার নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির। বিধায়ক থেকে সাংসদ, একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন। 

বিধানসভা ভোটের এখনও দু'মাসও কাটেনি, এর মধ্যেই তিন ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।এই শিবিরের নেতৃত্বে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দ্বিতীয় স্থানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই শিবিরের শক্তিক্ষয় অব্যাহত।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।