West Bengal Election Results 2026: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলের EVM আগে গণনা করা নিয়ে জোর জল্পনা। তৃণমূল কি বিরোধীদের চাপে ফেলতে এই স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে? পাল্টা ঘুটি সাজাচ্ছে বিজেপিও। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬-এর আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ, জানুন বিস্তারিত।
কার হাতে আগামী পাঁচ বছর থাকে রাজ্যের দায়িত্ব? ইতিমধ্যেই কাউন্টডাউন শেষ পর্বে পৈঁছে গেছে। আগামিকাল ফল প্রকাশ বিধানসভা ভোটের। তার আগেই ভোট গণনা নিয়ে শাসক-বিরোধী দুই শিবরিই যথেষ্ট তৎপর। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন নিজের কালীঘাটের বাড়িতে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের নির্বাচনী এজেন্টদের নিয়ে বৈঠকও করেছে তেমনই বিজেপিও দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করেছে। ভোটের পর এবার ভোট গণনার রণকৌশলেও কোনও রকম ছাড় দিতে নারাজ শাসক আর বিরোধী পক্ষ। ভোগ গণনা কেন্দ্রে শেষ কামড় দিতে মরিয়া যেমন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) অন্য দিকে গণনা কেন্দ্রে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপি (BJP)।
ভোট গণনা কেন্দ্র
রাজ্যে ৭৭টি গণনা কেন্দ্রে গণনা করা হবে ২৯৩টি আসনের ভোট। একটি আসন, ফলকা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ ও গণনা আপাতত স্থগিত। ২১ মে-র পরে হবে এই কেন্দ্রে ভোট আর তারপরে হবে গণনা। কিন্তু বাকি কেন্দ্রের ফলাফল স্পষ্ট হবে আগামিকাল, সোমবারই।
তৃণমূলের কৌশল
সূত্রের খবর ভোট গণনা কেন্দ্রে মারাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইভিএম রাখা রয়েছে স্ট্রংরুমে। কড়়া নজরদারিতেই রাখা রয়েছে সেগুলি। সূত্রের খবর, কিন্তু এমনভাবেই ইভিএম রাখা রয়েছে যাতে অধিকাংশ বিধানসভা এলাকার সংখ্যালঘু কেন্দ্রের ইভিএমগুলি আগে গণনা করা হয়। সূত্রের খবর এই কৌশল দক্ষিণবঙ্গে যাতে কার্যকর হয় তারজন্য রীতিমত মরিয়া চেষ্টা রয়েছে তৃণমূলের। কারণ দক্ষিণবঙ্গে বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। আর সেই দক্ষিণবঙ্গে যাতে তৃণমূলের হাতের মুঠোয় থাকে তারজন্য সংখ্যালঘু ভোটই তৃণমূলের বড় ভসরা- তেমনই বলছে তৃণমূলের একটি সূত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা জানিয়েছেন, গণনা কেন্দ্রে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না বিরোধীদের।
তৃণমূল সূত্রের খবর, সংখ্যালঘু এলাকার ইভিএম যদি আগে খোলা হয় তাহলে প্রথম থেকেই তৃণমূলের প্রার্থীরা লিড পাবে। তাতে বিরোধীদের মনোবল ভাঙতে শুরু করে। প্রথম দিকে যদি তৃণমূলের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকবে। বিরোধী বিশেষ করে বিজেপি প্রার্থীদের এজেন্টদের মনোবল ভাঙতে শুরু করবে। কিছু এজেন্ট তো হতোদ্যম হয়ে নিজে থেকেই গণনা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে পারে। আর বাকিদের ধমকে চমকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াও যেতে পারে। তাহলেই গণনা কেন্দ্রের রাশ তৃণমূল নিজেদের হাতে নিতে পারে। এমন পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও এবার গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা অনেকটাই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোট করিয়ে যেমন বাহবা কুড়িয়েছে তেমনই গণনাও যাতে শান্তিপূর্ণ হত তারও চেষ্টা করছে।
বিজেপির কৌশল
ইতিমধ্যেই বিজেপি গণনা নিয়ে রণকৌশল ঠিক করতে শুরু করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের নেতা ও কর্মীদের কোনও রকম অশান্তিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'জয়ের পরে বিজেপি কর্মীরা যেন হিসার আশ্রয় না নেন। বিভিন্ন জায়গায় মরিয়া হয়ে একটা রাজনৈতিক দল কিছু অবাঞ্ছিত লোকজনকে জড়ো করছে। কিন্তু এ বার সেই সব করে গণনায় গন্ডগোল করা যাবে না'। এবারে জয়ের ব্যাপারে রীতিমত আশাবাদী শমীক ভট্টাচার্য।


