জল্পনা চলছিল অনেকদিন ধরেই। শুক্রবার সকালেই রাজ্য সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা, পাইলট কার - সব ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। এর কিছু পরই রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকেই পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ মন্ত্রী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর - দুজনকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুন - ভাইরাল 'যোগঋষি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগী রূপ', ভিডিওটি কি সত্যি না ভুয়ো

আরও পড়ুন - মরিয়ম-কে 'ইঁদুর-ছত্রাক' খেতে বাধ্য করেছিলেন ইমরান খান, শৌচাগারে লাগানো ছিল ক্যামেরা

আরও পড়ুন - দাউ দাউ করে জ্বলে গেল আইসিইউ, নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে পুড়েই মরতে হল ৫ কোভিড রোগীকে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল দল বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা না হলেও, শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। টুইট করে রাজ্যের প্রশাসনিকর প্রধান জগদীপ ধনখর জানিয়েছেন, এদিন দুপুর ১টা বেজে ৫ মিনিটে শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয় থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা পদত্যাগপত্র তাঁকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। 'সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট' থেকে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

মন্ত্রীত্ব ছাড়লেও শুভেন্দু অধিকারী দল ছেড়েছেন কিনা, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কানাঘুসো শোনা যাচ্ছে শনিবারই দিল্লি যেতে পারেন শুভেন্দু। হাতে নিতে পারেন পদ্ম। তবে এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী এখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে লোকসভার কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরি বিষয়টিকে তৃণমূলেপর অশনি সঙ্কেত বলে মন্তব্য করেছেন।   

বিগত প্রায় এক-দেড় মাস ধরে দলে গুরুত্ব না পাওয়া নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতা, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল। বিজেপি দলের পক্ষ থেকেও দুহাত বাড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে তারপরও শুভেন্দু নিজেকে দলের অনুগত সৈনিক হিসাবেই বর্ণনা করেছিলেন। বলেছিলেন দল তাঁকে তাড়িয়ে দেয়নি। এই অবস্থায় অনেকেই মনে করেছিলেন নিজে থেকে দলত্যাগ করার বদলে তিনি চাইছেন দলই তাঁকে সরিয়ে দিক। কিন্তু, এদিনের ঘটনায় অনেক কিছুই বদলে গেল।