“ইংরেজরা সার্কুলার জারি করে দেশে ‘বন্দে মাতরম’ বলা বন্ধ করেছিল। তৃণমূল ‘জয় শ্রীরাম’ ব্যান করে দিক।” বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধনীতে তৃণমূল বনাম বিজেপি তরজা নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।

৩০ ডিসেম্বর হাওড়া স্টেশনে ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেসের উদ্বোধনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকাকালীন বিজেপি নেতা-কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষুব্ধ বঙ্গের শাসকদল। একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়ক, সংসদদের রাজনৈতিক আচরণ করার তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। শনিবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে ‘জয় শ্রী রাম’ শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেগে যাওয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘জয় শ্রীরাম নিয়ে যদি আপনার আপত্তি থাকে তাহলে আপনি বিল পাশ করিয়ে এটি নিষিদ্ধ করুন।’

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের দেশে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে আইনি বাধা নেই। ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেও বাধা নেই। উনি ক্ষেপে যাচ্ছেন কেন? আমাদের পিছনে তো রেগুলার ‘জয় বাংলা’ বলছেন। আমরা কি ক্ষেপে যাই? যদি আপনার ‘জয় শ্রীরাম’ শুনতে আপত্তি থাকে, বিধানসভায় বিল নিয়ে আসুন। রোজ তো কিছু-না-কিছু বিল আনেন। বিল এনে পাশ করিয়ে রাজ্যে ‘জয় শ্রীরাম’ নিষিদ্ধ করে দিন। ইংরেজরা সার্কুলার জারি করে দেশে ‘বন্দে মাতরম’ বলা বন্ধ করেছিল। তৃণমূল ‘জয় শ্রীরাম’ ব্যান করে দিক। মানুষ বুঝে যাবে, এরা কারা?’

শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজেপি সাংসদ, বিধায়কদের মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি উচ্চারিত হতে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে মূল মঞ্চে ওঠেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন, ধ্বনিদাতাদের আঙুলে নেড়ে বারণও করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার। তবে, ততক্ষণে তৃণমূল সমর্থকদের পালটা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উঠলে পরিস্থিতি অনেকটাই রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ।

তিনি বলেন, ‘এত বোঝালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব, তাও অনড় রইলেন মমতা। ওনার রাজনীতিটাই নেগেটিভ পলিটিকস। শুধু নাটক। আপনি তো জয় শ্রীরাম বলায় কিছু লোককে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। সারা বাংলার লোক ক্ষেপে আছে। এ জিনিস গণতন্ত্রে চলতে পারে না। আপনারা তো সরকারি অনুষ্ঠানে আমাদের এমপি, এমএলএ-দের ডাকেন না। আমরা তো তাও ডেকেছি। সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই প্রকল্পে ওনার কোনও অবদান নেই। আপনি এমন ভাব করছেন, যেন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।’

আরেকদিকে, কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বিজেপির জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘যেখানে সেখানে জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলে রামের বদনাম করা হচ্ছে, ছ্যাবলামি করা হচ্ছে। জয় শ্রীরাম করতে হলে রাম মন্দিরে গিয়ে করুন। ওরা আসলে রামভক্ত নয়, ওরা রামকে রাস্তায় নিয়ে এসেছেন বদনাম করার জন্য।’

আরও পড়ুন-
শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় আবার জয় তৃণমূলের, কোলাঘাটে দেউলিয়া সমবায় ভোটে বিজেপি সিপিএমের ভরাডুবি
ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভুয়ো ওষুধ, কড়া পদক্ষেপ নিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া