Rape Case: রাজ্যের নানা প্রান্তে বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে। এবার কোচবিহারের (Cooch Behar) মেখলিগঞ্জে (Mekhliganj) একই অভিযোগ উঠল। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বনধ ডাকা হয়েছে।

DID YOU
KNOW
?
ধর্ষণের প্রতিবাদে বনধ
নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে জামালদহ সচেতন নাগরিক মঞ্চের ডাকে ১২ ঘণ্টার বনধ।

West Bengal News: ১১ বছরের মেয়েকে যৌন হেনস্থা করল ষাটোর্ধ্ব প্রতিবেশী! যে হয়তো জন্ম থেকেই এই নাবালবিকাকে দেখছে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার মেখলিগঞ্জের (Mekhliganj) জামালদহ অঞ্চলে। অভিযোগ, ওই নাবালিকা নদীর ধারে খড়ি আনতে গিয়েছিল। সেই সময় ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হাত-মুখ চেপে ধরে যৌন হেনস্থা করে প্রতিবেশী প্রৌঢ়। সেই সময় প্রতিবেশী এক গৃহবধূর নজরে আসতেই তিনি নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে বাড়িতে দিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা জানলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তির হুমকির জেরে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেনি নির্যাতিতার বাবা। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নির্যাতিতার পরিবারকে সাহস দিয়ে শনিবার সন্ধেবেলা লিখিত অভিযোগ করতে জামালদহ ফাঁড়িতে যায় পরিবার। এরপর নাবালিকার বাবা মেখলিগঞ্জ থানায় যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে বহু মানুষ জামালদহ ফাঁড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। নির্যাতিতা জানিয়ছে, 'আমি স্নান করে বাড়ির পাশের নদীর ধারের জঙ্গলে রাখা খড়ি আনতে গিয়েছিলাম। সেই সময় আমাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে।' প্রত্যক্ষদর্শী গৃহবধূ জানিয়েছেন, 'আমি ঘটনাস্থলে না গেলে হয়তো বাচ্চা মেয়েটিকে মেরেই ফেলত।' 'এই ঘটনার পর নাবালিকা মেয়েটি আতঙ্কে রয়েছে। তাই ভয়ে লিখিত অভিযোগ আগে করিনি,' এমনই জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি আরও বলেছেন, 'আমি চাই সন্তানসম মেয়ের সঙ্গে যে অপকর্ম করল এক ষাটোর্ধ ব্যক্তি, তার কঠিন সাজা হোক।' এই ঘটনায় জামালদহ পুলিশ ক্যাম্পের সামনে সন্ধ্যা থেকেই উত্তেজিত জনতা ভিড় করতে থাকে। দোষীর শাস্তির দাবিতে একযোগে সরব হয়েছেন গ্রামের মহিলারাও। নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার ঘটনায় শনিবার রাতে জামালদহে টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়। যার জেরে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ হয়ে থাকে যান চলাচল। অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের ছোড়া পাথরে আক্রান্ত হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজ। এরপরেই চলে পুলিশের লাঠিচার্জ। মুহূর্তের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে অবরোধকারীরা। বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। মাথভাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে চলে টহল। বর্তমানে ওই অঞ্চল থমথমে রয়েছে। অন্যদিকে, নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় রবিবার ১২ ঘণ্টার ডাক দেয় জামালদহ সচেতন নাগরিক মঞ্চ। মাথাভাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’

আটক হওয়া প্রতিবাদীদের মুক্তির দাবি

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মেখলিগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে দেখা করে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একটি প্রতিনিধি দল। বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি নিরপরাধ প্রতিবাদীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং অকারণে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।