পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দ্বিতীয় দফায় সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮.৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে পূর্ব বর্ধমান। দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার এই আসনগুলিকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হয়, তাই এই দফার ভোট শাসকদলের কাছে এক বড় পরীক্ষা।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যের ১৪২টি আসনে গড়ে ১৮.৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়, ২০.৮৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে হুগলি, সেখানে ভোটের হার ২০.১৬ শতাংশ। নদিয়ায় ১৮.৫০ শতাংশ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে সকাল ৯টা পর্যন্ত। কলকাতা উত্তর এবং কলকাতা দক্ষিণে ভোটের হার যথাক্রমে ১৭.২৮ শতাংশ এবং ১৬.৮১ শতাংশ। অন্যদিকে, হাওড়ায় ভোট পড়েছে ১৭.৭৬ শতাংশ।
দ্বিতীয় দফায় সক্রিয় TMC-BJP
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে মূল লড়াইটা তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপির মধ্যেই। এদিন সকালে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন পোলিং বুথ ঘুরে দেখেন। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশন পোলিং বুথে নিজের ভোট দেন।
TMC-র অগ্নি পরীক্ষা
এই দ্বিতীয় দফার ভোটকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একরকম 'লিটমাস টেস্ট' বা অগ্নিপরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, এই দফায় মূলত দক্ষিণবঙ্গ এবং কলকাতার আসনগুলিতে ভোট হচ্ছে, যেগুলি চিরাচরিতভাবে তৃণমূলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত।
ভোটারের সংখ্যা
এই দফায় মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার প্রায় ৩.২১ কোটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন, মহিলা ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭৯২ জন।
মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী লড়ছেন, যাঁদের মধ্যে ২২০ জন মহিলা। ৪১,০০১টি পোলিং স্টেশনের মধ্যে ৮,০০০-এর বেশি কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন শুধুমাত্র মহিলারা।
১৪২টি আসনে ভোট হলেও, সবার নজর রয়েছে মূলত শহরের 'বিগ ফাইভ' লড়াইয়ের দিকে। এর মধ্যে ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ আসন তো আছেই, সেই সঙ্গে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্রবিন্দু টালিগঞ্জেও তারকাদের মধ্যে জোরদার টক্কর দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতেই জিতেছিল তৃণমূল। বিজেপির কাছে এই দফার চ্যালেঞ্জ হল শহরের 'ভদ্রলোক' ভোট এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নেওয়া। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করতে তৃণমূল নিজেদের এই দুর্গ রক্ষা করতে মরিয়া।


