আমেরিকাকে কোণঠাসা করার নয়া প্রচেষ্টা, রাশিয়ায় এবার থেকে কার্যকর হতে চলেছে চিনা মুদ্রা ইউয়ান

Published : Mar 23, 2023, 03:59 PM IST
russia china flag

সংক্ষিপ্ত

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চিনের শান্তি পরিকল্পনার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন পুতিন। তার এই বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত মাসে, চিন ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তার ১২ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্যবসায় চিনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারের বিষয়ে একটি বড় ঘোষণা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন মুদ্রা ডলারের আধিপত্য ভাঙার চলমান প্রচেষ্টায় পুতিনের এই ঘোষণাকে একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুতিন বলেছেন- 'আমরা রাশিয়ার পক্ষে চিনের মুদ্রা ইউয়ানের মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলির সাথে তার পেমেন্ট নিষ্পত্তি করার পক্ষে। আমি নিশ্চিত যে ইউভানে রাশিয়া এবং তার বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে একটি নিষ্পত্তির পদ্ধতি তৈরি করা হবে।' বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে রাশিয়ার পারস্পরিক বাণিজ্যের সমস্ত অর্থপ্রদান রাশিয়ান মুদ্রায় করা হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চিনের শান্তি পরিকল্পনার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন পুতিন। তার এই বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত মাসে, চিন ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তার ১২ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে। পুতিন বলেছেন যে এই পরিকল্পনা ইউক্রেন সমস্যার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। একই সংবাদ সম্মেলনে শি জিনপিং বলেছেন যে চিন "শান্তি ও সংলাপের" জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনকে নিজেদের মধ্যে সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানান।

মস্কোতে দুই দিনের আলোচনার পর পুতিন ও শি দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে একটিতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রস্তাব ব্যক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় নথিতে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। এর আওতায় উভয় দেশই বাণিজ্য থেকে লজিস্টিক পর্যন্ত সহযোগিতা বাড়ানোর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার রাশিয়া ও চিনের প্রচেষ্টার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পুতিন-শি শীর্ষ বৈঠককে পশ্চিমা গণমাধ্যমে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস তাদের এক মন্তব্যে বলেছে, রাশিয়া এই উদ্দেশ্যে চিনের জুনিয়র পার্টনার হতে রাজি হয়েছে। কিন্তু দুই প্রেসিডেন্টের আলোচনার পর জারি করা যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে রাশিয়া ও চিনের সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে- 'চিন ও রাশিয়ার সম্পর্ক শীতল যুদ্ধের যুগের সামরিক জোটের মতো নয়। এসব সম্পর্ক সরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠার বাইরে চলে গেছে। তাদের স্বভাব জোটের মতো নয়। এটি সংঘর্ষের জন্য নয় এবং এর লক্ষ্যে তৃতীয় কোনো দেশ নেই।

তবে উভয় দেশই বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তিনি OCUS (অস্ট্রেলিয়া-ইউনাইটেড কিংডম-যুক্তরাষ্ট্র) নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি আমেরিকা বিরোধী বক্তব্য।

PREV
click me!

Recommended Stories

India-Japan Relations: মোদী জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে 'ছোটি বহেন' কেন বললেন? আসল কারণটি জানুন
Anil Menon Spacewalk: মহাকাশে হাঁটতে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী অনিল মেনন, স্পেসওয়াকে অনিলের সঙ্গী ফরাসি মহিলার নজির