করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পায়ে হেঁটে, ভুখা পেটে,  তাঁরা রাজ্যে এসে পৌঁছেছেন। কিন্তু, সেখানেই তাঁদের দুরাবস্থার সমাপ্তি ঘটেনি। এরপরও তাদের করোনাভাইরাস যাচাই ও সরকারি ব্যবস্থাও খাওয়ানো দাওয়ানোর জন্য রীতিমতো পশুর মতো আটকে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁরা হাপুশ নয়নে কাঁদছেন, মুক্তি পেতে প্রায় পায়ে ধরছেন। সোমবার সকালে বিহারের এরকমই এক ভিডিও পোস্ট করলেন নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। আর তাই নিয়েই উত্তাল রাজনৈতিক মহল।

এদিন সকালে ওই ভিডিওটি টুইট করে প্রশান্ত সরাসরি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে দোষারোপ করেছেন। করোনভাইরাস সঙ্কটের মোকাবিলায় এটি বিহারের এক 'ভীতিজনক চিত্র' বলেন প্রশান্ত। সামাজিক দূরত্ব এবং পৃথকীকরণের জন্য নীতীশ কুমারের অব্যবস্থার শিকার শিকার হয়েছেন ওই ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা, বলে অভিযোগ করেন প্রশান্ত কিশোর।

বস্তুত, এই ভিডিওটি বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী সিওয়ান এলাকার বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একদল মানুষকে একটি কোলাপসিবল গেটের ভিতর তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। তার ভিতর থেকে হাত বাড়িয়ে ওই শ্রমিকরা তাদের অনুমতির কাগজপত্র দেখাচ্ছেন। সাহায্য চাইছেন। ওই দমবন্ধকর ভিড়ভাট্টায় তাদের মুখ শুধু রুমাল দিয়ে ঢাকা।

আরও পড়ুন - ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ পুড়ল চিনের, ৬ লক্ষ মাস্ক ফেরত পাঠাল নেদারল্যান্ড

আরও পড়ুন - 'মমতা-মোদি উদাহরণ তৈরি করেছেন', করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রশংসা রাজ্যপালের

আরও পড়ুন - করোনার প্রকোপ ঠেকাতে হাত বাড়ালেন তারকারা, অর্থদান করলেন এবার বিরুষ্কা

সেভাবেই একটি লোককে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা গিয়েছে, তাঁরা শুধু বাড়ি যেতে চান। আর কিচ্ছু চাহিদাতাঁদের নেই। কিন্তু, বাড়ি যেতে না দিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই তাদের বলা হচ্ছে বাস আসছে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সেটা আসলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কোনও বাসের নামগন্ধ নেই। তাঁর আশপাশে আরও অনেককে চোখের জল ফেলতে দেখা গিয়েছে।

ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশে কিছু প্রক্রিয়া ছাড়া এই ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের অবাধে চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। তাদের সমস্ত বিবরণ গ্রহণ করা, মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করা এবং তাদের খাবারদাবার দেওয়ার মতো কিছু কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে, যার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তার আগে তাদের ছাড়া যাবে না।

গত মঙ্গলবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আচমকা ২১ দিনের জন্য জাতীয় লকডাউন ঘোষণার পরে, দেশব্যাপী হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক কাজ ও আশ্রয় হারিয়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। লকডাউনে বন্ধ সব গণপরিবহন। তাই গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকদের তাদের মালপত্র এবং পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।

এদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকায় ঘরে ফেরা ভিনরাদজ্যের শ্রমিকরা বিহারের মতো বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিস্থিতিটিকে 'বিস্ফোরক' আখ্যা দিয়েছেন বিহারের মন্ত্রী সঞ্জয় ঝা। আপাতত ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কিন্তু, তার আগেই প্রশান্ত কিশোরের পোস্ট করা এই ভিডিও রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি করেছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লকডাউন জারির আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবের অভিযোগ করছে।