ভারতীয় ক্রিকেটে তাকে দ্য ওয়াল বলেই চেনেন সকলে। টেস্ট হোক বা ওয়ান ডে ভারতীয় ক্রিকেটের মিডল অর্ডারকে বছরের পর বছর ভরসা দিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়। ১৬৪টি টেস্টে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬টি সেঞ্চুরি সহ ১৩ হাজার ২৮৮ রান। গড় ৫২.৩। ওয়ান ডজে ক্রিকেটেও ১০ হাজার রানের মালিক মিস্টার ডিপেন্ডেবল। একদিনের ক্রিকেটে তার সংগ্রহ ৩৪৪ ম্যাচে ১২টি সেঞ্চুরি সহ ১০ হাজার ৮৮৯ রান। কিন্তু এই রাহুল দ্রাবিড়ই একসময় ওয়ান ডে ক্রিকেটে নিজের যোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে ভুগছিলেন। তার মনে দানা বেঁধেছিল সংশয় যে তিনি ওয়ান ডে ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত কিনা?এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা তুলে ধরলেন রাহুল দ্রাবিড়।

আরও পড়ুনঃলা-লিগা এবং কোপা-দেল-রে গিয়েছে ফসকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগই পাখির চোখ বার্সার

ডব্লিউ ভি রামনের সঙ্গে আলাপচারিতায় যোগ দিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। সেখানেই দ্রাবিড়ের ওয়ান ডে কেরিয়ার নিয়ে আলোচনার সময় উঠে আসে ১৯৯৮ সালে ভারতের পঞ্চাশ ওভারের দল থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গ। সেই সময় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল দ্রাবিড়ের স্ট্রাইক রেট। দ্রাবিড়  বলেন,'আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগার সময় ছিল তখন। ১৯৯৮ সালে ওয়ানডে দল থেকে বছর খানেকের জন্য বাইরে চলে গিয়েছিলাম। লড়াই করে ফিরতে হয়েছিল। বেশ কিছু অনিশ্চয়তা ছিল নিজের মধ্যেই। আমি ওয়ানডে খেলার উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে ভাবছিলাম। কারণ, আমি বরাবরই টেস্ট ক্রিকেটার হয়ে ওঠার কোচিং পেয়েছি, জমিতে বল রেখে খেলি, তুলে মারি না। তাই নিজের মধ্যে উদ্বেগ এসেছিল যে ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল হওয়ার স্কিল আমার আছে তো।' 

আরও পড়ুনঃএমন কোন ঘটনা পাল্টে দিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের গোটা জীবন

আরও পড়ুনঃকেনও ব্যাট হাতে দর্শক পিটিয়েছিলেন ইনজামাম,২৩ বছর পর রহস্যের উন্মোচন

তারপরেরটা আমাদের সকলেরই জানা। কঠোর পরিশ্রমের পর ফের  বছর খানেক পর দলে ফেরেন রাহুল দ্রাবিড়। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে রাহুল দ্রাবিড় ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৬১ রান। এই বছর দ্রাবিড় সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন। ২০০৩ বিশ্বকাপের আগে দল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দ্রাবিড়ের কিপিংয়ের গুনকে কাজে লাগান। কিপার ব্যাটসম্যান হিসে২০০৩ বিশ্বকাপ খেলেন দ্রাবিড়। ২০০৭ল  বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। ফলে শুধু টেস্টে নয়, নিজের যোগ্যতায় ওয়ান ডি ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেকে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলেছেন দ্য ওয়াল।