সোমবার ভারতীয় ক্রিকেটে বলা যেতে পারে একটি যুগের অবসান হল। ২০০০ সালে ম্যাচ গড়াপেটার কালো অধ্যায়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিনি তরুণ যুবরাজ সিং ও জাহির খানকে দলে নিয়েছিলেন। সেই শুরু হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার গঠন। তারপর একে একে আশীষ নেহরা, বীরেন্দ্র সেওয়াগরা এসেছিলেন দলে। তাঁরা সবাই একে একে ক্রিকেট থকে সরে গিয়েছেন। দাদার শেষ সৈনিক হিসেবে পড়েছিলেন যুবি। এদিন তিনিও পারি দিলেন অবসর গ্রহে।  

এদিন অবসরের মুহূর্তেও বারবার যুবরাজের মুখে এসেছে তাঁর প্রাণপ্রিয় দাদার নাম। মহেন্দ্রপ সিং ধোনির নেতৃত্বে তিনি একটি টি২০ বিশ্বকাপ ও একটি একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু তাঁর কাছে এখনও অধিনায়ক বলতে প্রথমেই মাথায় আসে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

অসামান্য ক্রিকেট আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন যুবি! স্ত্রী জানালেন অজানা কাহিনি

যুবি জানিয়েছেন  ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেকের আগের রাতে ক্যাপ্টেন তাঁকে বলেছিলেন ওপেন করার জন্য তৈরি থাকতে। অবশ্য ম্যাচের দিন সকালে উঠে যুবি জানতে পেরেছিলেন তাঁকে ওপেন নয়, তিন নম্বরে নামতে হবে। আগে অধিনায়ক সৌরভ তাঁর সঙ্গে মজা করেছিলেন। ম্যাচে অধিনায়কের আস্থার মর্যাদা দিয়েছিলেন তিনি। ম্যাকগ্রা, গিলেসপি, ব্রেট লি-দের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণকে সামলে করেন অপরাজিত ৮৪। জন্ম হয় এক নতুন ভারতীয় তারকার।

বরাবই যুবি পছন্দের পাত্র, কিন্তু একবার খুব রেগেও গিয়েছিলেন সচিন! জানেন কি হয়েছিল

পরবর্তীকালে অবশ্য প্রথম ম্যাচে দাদা যে মজা করেছিলেন তাঁর সঙ্গে তার জবরদস্ত প্রতিশোধ নিয়েছিলেন যুবি। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে যুবি হরভজনরা একটি নকল সংবাদপত্র তৈরি করেছিলেন। সেখানে প্রতিবেদনে লেখা ছিল সৌরভ দলের ক্রিকোরদের প্রত্যেককে নিয়ে বিষোদগার করেছেন। অধিনায়ককে সেই কাগজ দেখিয়ে যুবিরা ছদ্ম রাগ দেখান। সৌরভের শেষ পর্যন্ত প্রায় কেঁদে ফেলার দশা হয়। তখন যুবিরা জানিয়েছিলেন যে সেটা ছিল নিছকই মজা।

কারোর দয়ায় খেলেন না, বাঘের বাচ্চা পেয়েছিলেন দাদা! বিদায়বেলাতেও শোনা গেল হুঙ্কার

অবসের দিন যুবিকে তাঁর দেখা সেরা অধিনায়ক বাছতে বলা হলে তিনি সবার আগে সৌরভের নামই করেন। ২০০০ সালে যেভাবে সৌরভ তাঁকে দলে সুযোগ করে দিয়েছিলেন তার জন্য দাদাকে কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর বিশ্বস্ত সেনানী যুবরাজ। ইদানিংকালে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে অনেকসময় ইডেন গার্ডেন্সে খেলতে এলেও বর্তমান সিএবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সবসময় তাঁকে আলাদা করে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে। শেষ দিনও সৌরভের তাঁর বক্তব্যের অনেকটা জুড়েই থাকলেন দাদা।

ধোনির নাম এল একবার, বিরাটের একবারও না! বিদায়বেলায় যুবি কি অভিমানী

আক্ষেপ রয়েছে টেস্ট নিয়ে! কেন ততটা সফল নন, মনের কথা জানালেন যুবি