'লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ' অনুষ্ঠানে ঘাটালের রীতা আড়ি তাঁর স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট না পাওয়ার সমস্যার কথা জানান। খবর পেয়ে সাংসদ দেব দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন ….
‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এর মঞ্চে উঠে নিজের অসহায়তার কথা জানিয়েছিলেন ঘাটালের রীতা আড়ি। স্বামীর মৃত্যুর পরও দীর্ঘদিন হাতে পাননি ডেথ সার্টিফিকেট। তার জেরে একদিকে যেমন প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল নানা কাজ, অন্যদিকে স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এবার সেই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব।
সম্প্রতি বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এর একটি বিশেষ পর্বে ঘাটালের চন্দ্রকোণার বাসিন্দা রীতা আড়ির জীবনসংগ্রামের কথা উঠে আসে। স্বামী রাখাল আড়ির মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন তিনি। জানা যায়, রাখাল ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু মৃত্যুর পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও পরিবারের হাতে আসেনি তাঁর মৃত্যুপ্রমাণপত্র।
ডেথ সার্টিফিকেট না থাকায় স্বামীর ঋণের বিষয়টিও নিষ্পত্তি করা যাচ্ছিল না। ফলে সংসারের অভাবের মধ্যেই প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছিল রীতাকে। অনুষ্ঠানে নিজের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর এই সমস্যার কথা ঘাটালের সাংসদ দেবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
সুদীপ্তা জানিয়েছেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকের মাধ্যমে দেবকে রীতার সমস্যার কথা জানান তিনি। ওই রাতেই দেব জানান, বিষয়টি তিনি দেখছেন। এরপর সোমবার সকালেই দেবের টিমের তরফে সুদীপ্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আর তার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই রীতার স্বামীর মৃত্যুপ্রমাণপত্র তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয় বলে জানান সুদীপ্তা।
শুধু ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়াই নয়, এরপর আরও একটি বড় স্বস্তির খবর আসে রীতার পরিবারের জন্য। ‘লক্ষ্মীলাভ’ টিমের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় মৃত্যুপ্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পর রাখালের নামে থাকা ঋণও মকুব হয়ে গিয়েছে। ফলে মাসে মাসে ঋণের কিস্তি দেওয়ার চাপ থেকে মুক্তি পেলেন রীতা।
দেবের দ্রুত উদ্যোগের জন্য প্রকাশ্যেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুদীপ্তা। তাঁর কথায়, রীতার ভার কিছুটা হলেও কমেছে। তবে একইসঙ্গে তাঁর আবেদন, যাঁদের কোনও পরিচিতি বা প্রভাব নেই, ভবিষ্যতে যেন তাঁদের এমন প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়তে না হয়। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মীদের আরও দ্রুত সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
রীতার সমস্যার কথা জানতে পেরে দেবের এই দ্রুত পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিনোদন জগতের তারকা হওয়ার পাশাপাশি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সমস্যায় তাঁর এই হস্তক্ষেপ নিয়ে নেটদুনিয়াতেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
