মুম্বইয়ের বাড়িতে হওয়া সেই হামলার পর থেকে তাঁর মনে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, যদিও তাঁর পরিবার এই আতঙ্ক দ্রুত কাটিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সইফ এই কথাগুলো বলেন।

সাইফ আলি খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, এক ছুরি হামলার ঘটনা তাঁর মনের ওপর কতটা গভীর আর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটা এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফ খোলাখুলি বলেন, “আমি এখনও এই আতঙ্কটা ১০০ শতাংশ কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কারণ এখনও ছুরি দেখলেই আমার শরীর-মন প্রতিক্রিয়া করে বসে।” গালফ নিউজকেও তিনি জানান, ঘটনার দেড় বছরের বেশি সময় পরেও ছুরি দেখলেই তাঁর মধ্যে একটা তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।

২০২৫ সালের জানুয়ারির সেই ঘটনা: অল্পের জন্য রক্ষা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাইফের মুম্বাইয়ের বাড়িতে এক চোর ঢোকার চেষ্টা করলে এই ঘটনা ঘটে। অভিনেতা সাহসের সঙ্গে সেই চোরের মুখোমুখি হন। ধস্তাধস্তির সময় সাইফের শরীরে একাধিকবার ছুরির আঘাত লাগে। তবে, অভিনেতা নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কারণ, হামলাকারীর ছুরিটা লড়াইয়ের মাঝেই ভেঙে যায়, আর তাই তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সাইফের কথায়, “ছুরি হামলার ইতিহাসে ওটা বোধহয় সবচেয়ে বাজে ছুরি ছিল। ওর কাছে যদি একটা ভালো র‍্যাম্বো নাইফ থাকত, আমি হয়তো সেদিনই মারা যেতাম।”

আতঙ্ক এখনও কাটেনি

দেড় বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও সেই রাতের অভিজ্ঞতা এখনও সাইফের মনে গেঁথে আছে। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ করে ছুরি দেখলেই তাঁর মধ্যে একটা তীব্র, অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া হয়। তাঁর কথায়, পরিবার এই ধাক্কাটা বেশ তাড়াতাড়ি সামলে নিয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী করিনার ওপর এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল। সাইফ বলেন, “আমার মনে হয়, আমার স্ত্রী সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিল, কারণ ও এমনিতেই খুব সংবেদনশীল। আমরা অবশ্য খুব তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা সামলে নিয়েছিলাম। যদিও পুরো ঘটনাটাই ছিল মারাত্মক।” এই ঘটনা বুঝিয়ে দেয়, এমন হিংসাত্মক ঘটনা শিকারের প্রিয়জনদের মনেও কতটা গভীর ছাপ ফেলে।

বেঁচে ফেরা ও জীবনের নতুন উপলব্ধি

এই মারাত্মক ঘটনা সাইফের জীবনদর্শনও বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা এবং নিজের প্রিভিলেজ বা সুবিধা নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবতে শিখেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, সমাজে যেখানে ধনী-গরিবের এত ফারাক, সেখানে “ভাগ্যকে পরীক্ষা করা উচিত নয়।” তাঁর মতে, স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, বিপদ যে কারও আসতে পারে। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সবসময় সতর্ক থাকা দরকার এবং আগের মতো নিশ্চিন্ত থাকাটা বোকামি।

জানা গিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলছে এবং তদন্ত জারি রয়েছে।