রাজ্য সরকার কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য টেট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য স্কুলশিক্ষা দফতর পর্ষদ ও SSC-র কাছে দিনক্ষণ জানতে চেয়েছে।

প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের টেট গ্রহণের তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। কবে সেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, তা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও SSC-র কাছে জানতে চাইল স্কুলশিক্ষা দফতর।

এই নিয়ে এক আধিকারিক বলেন, শুক্রবার দফতর থেকে নির্দেশিকা এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে টেট নিতে হবে। দফতর আমাদের কাছে দিনক্ষণ জানতে চেয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দফতরকে জানিয়ে দেব।

এরপরই শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর হয় ২০১০-এ। সেই আইন অনুসারে বিধি তৈরি করে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফল টিচার্স ট্রেনিং বা এনসিটিই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাইয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তার আগে যারা শিক্ষক হিয়েকে কাজ শুরু করেছিলেন, তাদেক এই টেট-র আওতায় আসার কথা নয়। শিক্ষাকদের একাংশ আবেদন করেছিলেন, এই আইন কার্যকর হওয়ার আগে থেকে যে সকল শিক্ষক কর্মরত, তাদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হোক।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, বিজেপি সরকার আমাদের রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে কর্মরত শিক্ষকদের যাতে টেট দিতে না হয়, তার ব্যবস্থা করবে। ক্ষমতায় এসেই একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল। শিক্ষকসমাজকে প্রতারণা করা হল।

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক বলেন, বিধানসভা ভোটের আগে কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতায় বসেই সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এখন সেই টেট ফরমান জারি করল নতুন রাজ্য সরকার। এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছি। শিক্ষার অধিকার আইনে টেট শর্ত অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের জন্য কোনও ভাবে টেট বাধ্যতামূলক করা যাবে না।