গত সপ্তাহ টা একেবারেই ভালো যায়নি জুভেন্তাসের। কোপা ইতালিয়া সেমিফাইনালে ১০ জনের মিলানের বিরুদ্ধে গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। রোনাল্ডোর করা অ্যাওয়ে গোলের ভিত্তিতে ফাইনালে পৌঁছলেও সেখানে হারতে হয় নাপোলির কাছে। ফলে ফুটবল ফেরার পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে জুভেন্তাস তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পারে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত ছিল ভক্তরা। কিছু তাদের সমস্ত চিন্তা কমিয়ে রোনাল্ডো এবং পাওলো দিবালার গোলে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করে জুভে। পরের ম্যাচে তারা নামবেন ২৬ তারিখ রাতে লিৎসের বিরুদ্ধে। 

আরও পড়ুনঃ'আইপিএল আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল,আইপিএলেই নিজেকে প্রমাণ করতে চাই'

জুভেন্তাসের প্রথম গোলটি করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কোপা ইতালিয়ায় মিলানের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য পেনাল্টি নষ্ট করে সমালোচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এইদিন পানেনকা কিকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান। চলতি মরশুমে ২৩ ম্যাচে ২২ গোল করে ফেললেন লিগে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী লিগের খেলায় প্রতি ৯২ মিনিটে একটি করে গোল করছেন তিনি। একজন ৩৫ বছর বয়সী ফুটবলারের পক্ষে যেটা অসাধারণের থেকেও বেশি কিছু। এর সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি রেকর্ড করে ফেললেন তিনি। সিঁরি আ-তে খেলা পর্তুগিজদের মধ্যে এতদিন সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ছিল রুই কোস্তার। তার গোল সংখ্যা ছিল ৪২। জুভের হয়ে লিগে নিজের ৫৪ নম্বর ম্যাচেই সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন সি-আর-সেভেন। তার গোলসংখ্যা বর্তমানে ৪৩। তিনি সিঁরি আ-তে যোগ দেওয়ার পর থেকে আর কোনও খেলোয়াড় তার থেকে বেশি গোল করতে পারেননি। যদিও গোল করলেও ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স একটু চোখে লেগেছে। ২ বছর আগে হলে হয়তো যে কটা সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন তার থেকে হ্যাটট্রিক করতেন। একবার তার গোল অল্পের জন্য অফসাইড ডাকা হয়। তিনি নিজে ঠিক জায়গায় থাকলেও বিল্ড আপের সময় অফসাইড ছিলেন ডগলাস কোস্তা। গোলকিপারের ওপর দিয়ে করা একটি হালকা চিপ গোলে রাখতে পারেননি রোনাল্ডো। তার দূরপাল্লার শটও হালকার জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। এখনও নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে পারেননি তিনি। যদিও মাঝে মাঝে ডিফেন্সে নেমে দলকে সাহায্য করেছেন। 

আরও পড়ুনঃপাকিস্তানে ক্রিকেট দলে করোনার থাবা,আক্রান্ত তিন ক্রিকেটার

আরও পড়ুনঃদক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে করোনার থাবা,আক্রান্ত একসঙ্গে ৭ জন

জুভেন্তাসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি পাওলো দিবালার। বেরনারদেশচী-র পাস ধরে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে গোলার মতো শটে গোল করেন তিনি। ম্যাচেও ভালোই খেলেছেন তিনি। ভালো ফর্মে ছিলেন ফ্রেডরিকো বেরনারদেশচীও। দ্বিতীয়ার্ধে তার শট পোস্টে লাগে। যদিও মাঝমাঠ এবং ডিফেন্স নিয়ে চিন্তা কাটলো না জুভের। ম্যাচে ফরোয়ার্ডদের মাঝমাঠ থেকে ভালো বল সাপ্লাই দিতে ব্যর্থ মিডফিল্ডাররা। জুভের প্রধান লেফট ব্যাক আলেক্স স‍্যান্দ্রো চোটের জন্য ছিলেন না। ফলে শুরু করেছিলেন দি-সিজলিও। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চোটের জন্য মাঠ ছাড়তে হয় তাকেও। বাধ্য হয়ে রিজার্ভে থাকা আর এক রাইট ব্যাক দানিলো কে লেফট ব্যাকের জায়গায় নামাতে বাধ্য হন জুভে ম্যানেজার মৌরাসিও সারি। কিন্তু দুবার দায়িত্বজ্ঞান হীন ফাউল করে লাল-কার্ড দেখেন তিনি। পরবর্তী ম্যাচে এখন সেই জায়গায় কে খেলবে তা ঠিক করতে রাতের ঘুম উড়তে চলেছে জুভে হেডকোচ সারির।