ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে গিয়েছিল। চমকে উঠেছিল ফুটবল বিশ্ব। আঁতকে উঠেছিল বিশ্ব জুড়ে তার কোটি কোটি ভক্তরা। প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়ে গিয়েছিল ইনিই কী সেই ৮৬-র বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। ইনিই কী সেই স্বপ্নের ফুটবলার। যার পায়ের যাদুতে মজেন আট থেকে আশি। অনেকে বলতে শুরু করে দিয়েছিল আগামী প্রজন্মকে আমরা কী বলব এই স্থূলকায় লোকটি একার কাঁধে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বজয়ী করেছিল। এনাকে দেখিয়েই বলতে হবে এই ব্যক্তি ফুটবলের রাজপুত্র দিয়াগো মারাদোনা। এই সব প্রশ্নের সৌজ্যন্যে ওই একটি ভিডিও। 

আরও পড়ুনঃএ যেন ছোট্ট ধোনি,অবকিল মারছে মাহির ট্রেডমার্ক হেলিকপ্টার শট,দেখুন ভাইরাল ভিডিও

আরও পড়ুনঃস্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিজের অ্যাকাডেমিতে অনুশীলন শুরু করলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে একটি ভিডিও। যাতে দেখা যায়, লাল সুড়কির টেনিস কোর্টে দাঁড়িয়ে শরীর নিয়ে বেসামাল এক ব্যক্তি। শরীর টলমল হলেও সামান্য টেনিস বল নিয়ে পায়ে জাগলিং করেই চলেছে। চেহারার বারে অবশ্য বেশিক্ষণ তা করতে পারেননি। হাঁপিয়ে উঠেছেন। লোকটিকে অবিকল দেখতে মারাদোনার মত। টেনিস বলে এমন নিয়ন্ত্রণ দেখে সকলে বিশ্বাস করেও নেয় ইনিই ফুটবলের রাজপুত্র। বভাইরাল এই ভিডিয়োটি বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হয়। কিন্তু অবশেষে ভুল ভাঙে সকলের। জানা যায় লোকটি মারাদোনা নয়। মারাদোনাকে নিয়ে তৈরি একটি ছবির দৃশ্য।

আরও পড়ুনঃপ্রথা ভাঙল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ,বাকি ম্যাচগুলিতে নয়া নিয়ম লাগু কর্তৃপক্ষের

যদিও গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক ওজন বেড়েছে কিংবদন্তীর, কিন্তু ভিডিওর স্থূলকায় ব্যক্তি তিনি নন। এই ভিডিওটি ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া হলিউড ছবি ‘ইয়ুথ’-এর একটি দৃশ্য। যেখানে মারাদোনার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তাঁরই মতো দেখতে রলি সেরানো নামে এক অভিনেতা। লকডাউনের বাজারে বাড়িতে থেকে ওজন বাড়িয়ে ফেলেছেন, তাই ভূঁড়ি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মারাদোনা এই ভুয়ো খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল পাঁচ বছর পুরনো ছবির ভিডিও। ইউটিউবে গিয়ে ইংরেজিতে দিয়েগো মারাদোনা লিখলে চার বছর আগের একটি ভিডিয়ো পাওয়া যাবে। যা গোরিলা গার্ডেনার নামে চ্যানেলে আপলোড করা হয়েছে। খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে, ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো এবং এই ভিডিয়ো একই। বরং ইউটিউবে আরও বেশি অংশ রয়েছে। ভিডিয়োর ডেসক্রিপশনে লেখা এটি 'ইউথ' ছবির দৃশ্য। বর্তমানে মারাদোনা আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব জিমনাসিয়া ই এসগ্রিমার কোচিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সেখানেই উপভোগ করছেন কোচিং জীবন। খবরের সত্যতা সামনে আসার পর হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন বিশ্ব জুড়ে মারাদোনা ভক্তরা।