লকডাউনের জেরে কার্যত প্রায় সকলেই গৃহবন্দি। ফলে বাড়িতে বসে বসেই বেশিরভাগ সময় কেটে যাচ্ছে। যা স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কোনও রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় তবে শরীর সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরী। সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে, আমরা ঘরে বসে, ঘন ঘন হাত ধোয়া, মুখোশ ব্যবহারের নিয়মগুলি অনুসরণ করছি। তবে কীভাবে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা যায়, এই বিষয়ে আমরা অনেকেই সচেতন নই। এটি সাধারণত আমাদের জীবনযাত্রার এবং ডায়েটের উপর নির্ভরশীল। জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ঘরে বসে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে উন্নত করা যায়, এই বিষয়ে কী বলছেন ডায়েটিশিয়ানরা।

আরও পড়ুন- স্টে হোমে ওজন কমাতে পাতে রাখুন এই আলু, কমবে মানসিক অবসাদও

এই অবস্থায় বাড়িতে থাকার একটি রুটিন ঠিক করতে হবে। এই সময়ে অনেকেই অনেক রাত অবধি জেগে থাকছেন আর দেরী করে ঘুম থেকে উঠে ফ্রিজে থাকা ঠান্ডা খাবার খাচ্ছেন। এই নিয়মটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই রুটিনে চললে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। পাশাপাশি যারা ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যা রয়েছে তা আরও বাড়তে পারে। এই কঠিন সময়ে নিজেকে সংযত রাখা সবচেয়ে জরুরি। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপও আমাদের সবার উপরে রয়েছে, তাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আরও পড়ুন- 'কথা না শুনে খালি খালি ঘর সে নিকাল তা হ্যাঁয়', করোনা সচেতনতায় প্রবীণার এই বার্তায় হাসির রোল

এই সময়ে সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ভাল ঘুমের প্রয়োজন যা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এমন পরিস্থিতিতে যখন আমরা বাড়িতে থাকি, তখন চেষ্টা করা উচিত রাতে সময়ের আগে ঘুম পরা এবং খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা। এই রুটিন নিয়মিত মেনে চলার চেষ্টা করুন। ঘুম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আপনি স্বাস্থ্যকর, সতেজ এবং শক্তিশালী বোধ করবেন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ডায়াবেটিস, স্থূলত্ব, হৃদরোগ এবং রক্তচাপের রোগীদেরও তাদের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার।

আরও পড়ুন- করোনায় আক্রান্ত এবার রাজ্য়ের এক কাউন্সিলর, জনপ্রতিনিধির রিপোর্ট পজিটিভ আসায় চরম উদ্বেগে স্বাস্থ্য ভবন

আরও পড়ুন- পলাতক মহিলার দেওয়া ঠিকানাও ভুয়ো, করোনা-জেহাদির ভয়ে সন্ত্রস্ত গোটা শহর

আরও পড়ুন- করোনাভাইরাস আসলে সরকারের চক্রান্ত, বিস্ফোরক পোস্ট করে শ্রীঘরে গেল যুবক

যখন আমরা বাড়িতে থাকি তখন অন্য কোনও শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সুযোগ থাকে না। আপনি যদি যোগা বা অন্য কোনও শারীরিক কসরত শিখে থাকেন তা নিয়মিত অভ্যাসে কাখুন। এছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন একই সময়ে চোখ বন্ধ করে মানসিক ভারসাম্য এবং তৃপ্তির জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ধ্যান করুন। মন্ত্র জপ করলে আপনার মনও শান্ত থাকবে। সকালে এবং সন্ধ্যা প্রতিদিন সময় করে ব্যায়াম করুন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তুলবে।

এর সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠার দুই ঘন্টার মধ্যে পেট ভরে প্রাতঃরাশ করুন। প্রতি ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পরপর হালকা খাবার খান। মুড়ি, বিস্কুট, চিড়ে শরবত ইত্যাদি।  দুপুরের খাবার বেলা ১ টা থেকে ২ টোর মধ্যে সেরে ফেলুন। সন্ধ্যাবেলা কম চিনিযুক্ত চা সঙ্গে চিঁড়ে অথবা সুজির মতো হালকা খাবার খেয়ে নিন। রাত নটার মধ্যে রাতের খাবার সেরে ফেলুন। সেই সঙ্গে সারাদিনে নিয়ম করে প্রচুর জল পান করতে হবে। যা শরীরের থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করবে ও প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।