এখনকার ভোটপর্ব মেটার আগেই ২০২৭-কে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাট-সহ ৭টি রাজ্যে পরবর্তী বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানাল দল। এবার কেরালাতেও বড়সড় সাফল্যের আশা করছে নেতৃত্ব।

দিল্লি: কেরালা-সহ চার রাজ্য ও পুদুচেরির ভোট মিটতে না মিটতেই বিজেপি এখন থেকেই ২০২৭ সালের ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যখন শেষ দফার ভোটগ্রহণ চলছে, ঠিক তখনই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের পরবর্তী লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিল। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন জানিয়েছেন, আগামী বছর যে সাতটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে, সেখানে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যও রয়েছে।

নীতিন নবীনের কথায়, বর্তমান বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর আগেই বিজেপি পরের লড়াইয়ের জন্য ময়দানে নেমে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। নেতৃত্ব আরও জানিয়েছে, অন্য দলগুলো যখন ভোটের ঠিক আগে রণকৌশল তৈরি করে, বিজেপি তখন সারা বছরই সক্রিয় থাকে। নীতিন নবীন ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাট সফর করে ফেলেছেন এবং সেখানে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি উত্তরাখণ্ড সফরে যাবেন বলেও খবর। দলের নীতি স্পষ্ট—একটা ভোট শেষ হওয়া মানেই বিজেপির কাছে পরের ভোটের প্রস্তুতি শুরু।

কেরালায় বড় সাফল্যের আশা

এদিকে, ৪ মে ভোটগণনা হবে কেরালা-সহ বাকি রাজ্যগুলিতে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা এই রাজ্যগুলিতে বড়সড় সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী। দলের আশা, এবার কেরালাতে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য আসবে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পুদুচেরি এবং তামিলনাড়ুতেও দল ভালো ফল করবে বলে মনে করছে বিজেপি। তাদের হিসেব অনুযায়ী, অসম ও পুদুচেরিতে তারা ক্ষমতা ধরে রাখবে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে এনডিএ সরকার গড়বে।

গুজরাটের পুরভোটে বিজেপির বিপুল জয়

অন্যদিকে, গুজরাটের স্থানীয় পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। রাজ্যের ১৫টি কর্পোরেশনেই বিজেপি ক্ষমতা দখল করেছে। আহমেদাবাদ এবং সুরাটের মতো অনেক কর্পোরেশনের বেশিরভাগ আসনই বিজেপি জিতেছে। আহমেদাবাদের ১৯২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬১টি পেয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস মাত্র ৩১টি ওয়ার্ডে আটকে গিয়েছে। পোরবন্দর পুরসভা একেবারে বিজেপির দখলে, এখানকার ৫২টি আসনের সবকটিই তারা জিতেছে। মোরবি পুরসভাতেও একই ছবি। সেখানেও ৫২টির মধ্যে ৫২টি আসনেই বিজেপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সুরাটে গতবার ভালো ফল করা আম আদমি পার্টি (আপ) এবার মাত্র চারটি আসনে নেমে এসেছে। 

এখানকার ১২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ১১৪টি, আর কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র একটি আসন। ভাদোদরায় বিজেপি ৬৯টি এবং কংগ্রেস ৬টি আসন পেয়েছে। দুটি কর্পোরেশনের সবকটি আসনই বিজেপি জিতেছে। পুরসভাগুলি বাদ দিয়ে বাকি সব ক্ষেত্রেই বিজেপির জয়জয়কার। মোট ১০৯০টি জেলা পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ৭৮২টি জিতে গ্রামীণ এলাকাতেও বিজেপি নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। তবে নর্মদা জেলা পঞ্চায়েত দখল করেছে আম আদমি পার্টি। বাকি ৩৩টি জেলা পঞ্চায়েতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস একটিও জেলা পঞ্চায়েত জিততে পারেনি। আপ দাবি করেছে, গতবারের চেয়ে তারা ভালো ফল করেছে। কিন্তু বিজেপি এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, সুরাট কর্পোরেশনে আপের আসন ২৭ থেকে কমে ৪-এ দাঁড়িয়েছে।