উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগে প্রবল বৃষ্টির কারণে কেদারনাথ হাইওয়েতে ধস নেমেছে, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে কেদারনাথ হাইওয়ের বেশ কয়েকটি জায়গায় ধস নেমেছে এবং মাটি ক্ষয়ে গিয়েছে। এর ফলে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত রাস্তা খোলার জন্য কাজ শুরু করেছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক, দ্রুত রাস্তা খোলার নির্দেশ
জেলাশাসক বিশাল মিশ্র নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং আধিকারিকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন। ANI-কে তিনি জানান, "বুধবার গভীর রাত এবং বৃহস্পতিবার সকালে কেদারনাথ হাইওয়ে-সহ বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে ধসের খবর আসে। চার ধাম যাত্রা এবং শ্রী কেদারনাথ ধাম তীর্থযাত্রার জন্য এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, "আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমাদের টিম খুব ভালো কাজ করেছে এবং রাস্তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কিছু বড় পাথর সরানো বাকি আছে। আমি টিমকে দ্রুত সেগুলি সরানোর নির্দেশ দিয়েছি।"
জেলাশাসক জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে পাহাড়ের ঢালের সংস্কার কাজের জন্য THDC-র সাহায্য নিতে বলেছেন। এছাড়াও, ভবিষ্যতের জন্য একটি সুরক্ষা দেওয়াল কতটা মজবুত করা প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতেও THDC-র সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ক্ষয়ক্ষতি এবং মেরামতির অগ্রাধিকার
পরিদর্শনের সময়, জেলাশাসক একটানা বৃষ্টির ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখেন। কেদারনাথ হাইওয়ের অনেক অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় নদীর পাড় ভেঙে গিয়েছে। অগস্ত্যমুনির কাছে পাহাড় থেকে প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসস্তূপ ও পাথর রাস্তায় এসে পড়েছে। তিনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় দ্রুত মেরামতির কাজ শেষ করতে বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তীর্থযাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সবচেয়ে আগে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করাও জরুরি।
নদীর জলস্তর বাড়ায় হাই অ্যালার্ট
এদিকে, রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর জেরে জেলা প্রশাসন হাই অ্যালার্ট জারি করেছে এবং সমস্ত আধিকারিককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সমস্ত বিভাগকে তৈরি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) সতর্কতার কথা মাথায় রেখে, জেলা প্রশাসন সমস্ত আধিকারিককে নিজ নিজ এলাকায় কড়া নজর রাখতে বলেছে। প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলিকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-সহ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।

