শুক্রবার সকালে লখনউয়ের ব্যস্ত চারবাগ স্টেশনে হুলস্থূল কাণ্ড। প্ল্যাটফর্মের শেডের একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় দুই যাত্রী এবং একজন টিকিট পরীক্ষক (TTE) আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে লখনউয়ের ব্যস্ত চারবাগ স্টেশনে ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৫-এর শেডের একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় দুই যাত্রী এবং একজন টিকিট পরীক্ষক (TTE) আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে সকাল ৮টা নাগাদ। তখন হাওড়া-দুন এক্সপ্রেস (13037) ধরার জন্য যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। বর্তমানে রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তত্ত্বাবধানে স্টেশনটিকে আধুনিকীকরণের কাজ চলছে।

ভারী লোহার কাঠামোটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্ল্যাটফর্ম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক যাত্রী ও এক TTE-কে উদ্ধার করতে ছুটে এসেছেন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (RPF) জওয়ানরা।
রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যে শেডটি ভেঙে পড়েছে, সেটি ইতিমধ্যেই পুনর্নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। এয়ার কনকোর্স তৈরির জন্য পাশের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি ১৫ মে থেকে বন্ধ থাকলেও, ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
নর্দার্ন রেলওয়ের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার সুনীল কুমার ভার্মা বলেন, "২৩ জুন পর্যন্ত ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, শুক্রবার শেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং দুই যাত্রী ও এক TTE সহ তিনজন আহত হন।"
আহত যাত্রীদের নাম সাহিল এবং অভিষেক। তাঁরা হাওড়া-দুন এক্সপ্রেসে করে হরিদ্বার যাচ্ছিলেন। আহত TTE-র নাম ভূপিন্দর সিং। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন জনকেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁরা এখন বিপদমুক্ত। সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার সমর্থ গুপ্ত জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে সূত্রের খবর, ভূপিন্দর সিংয়ের পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে।
স্টেশন ডিরেক্টর গৌরব দীক্ষিত জানান, দুই যাত্রী সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন এবং চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উভয় যাত্রীকে ৫,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর, নর্দার্ন রেলওয়ের সদর দফতর পুনর্নির্মাণের দায়িত্বে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করেছে এবং নির্মাণকারী সংস্থার উপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে। এই দুর্ঘটনার আসল কারণ জানতে এবং এই হাই-প্রোফাইল প্রকল্পে যথাযথ নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে রেল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

