ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে মাওবাদীদের একটি পুরনো ডেরা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ৬৫ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে। বস্তারের আইজি পি. সুন্দররাজ জানিয়েছেন, এই অভিযান মাওবাদী-বিরোধী অপারেশনেরই একটি অংশ এবং এর ফলে ওই এলাকায় মাওবাদী সংগঠন প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছে।

বিজাপুরে বিরাট সাফল্য

ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিরাট সাফল্য। মাওবাদীদের একটি পুরনো ডেরা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা আর প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এসএলআর এবং এলএমজি-র মতো মারাত্মক অস্ত্রও রয়েছে। বুধবার বস্তারের আইজি পি. সুন্দররাজ এই খবর জানিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সুন্দররাজ বলেন, এই সাফল্য মাওবাদী-বিরোধী অভিযানেরই একটি অংশ। তিনি বলেন, "'মিশন ২০২৬'-এর অধীনে বস্তার ডিভিশনে ডিআরজি, এসটিএফ, বস্তার ফাইটার্স, কোবরা, বিএসএফ, আইটিবিপি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো গত কয়েক মাস ধরে একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশলের ভিত্তিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।"

তিনি আরও দাবি করেন যে এই অভিযানের ফলে ওই এলাকায় মাওবাদীদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সুন্দররাজের কথায়, "এর ফলে মাওবাদী সংগঠন এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।"

আইজি-র মতে, গত দেড় মাস ধরে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী ক্যাডার, পুলিশের নিজস্ব সোর্স এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় পাওয়া খবরের ভিত্তিতেই গত প্রায় দেড় মাস ধরে বস্তার ডিভিশনে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান চলছে।"

"সেই সূত্রেই আজ বিজাপুর জেলায় মাওবাদীদের একটি পুরনো ডেরা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা এবং এসএলআর ও এলএমজি-সহ প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে," যোগ করেন সুন্দররাজ।

মার্চ মাসের 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত'

এর আগে, গত ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় ১২ জন মহিলা-সহ ২৫ জন মাওবাদী ক্যাডার নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। তাদের কাছ থেকে ৭ কেজি সোনা, ২.৯২ কোটি টাকা এবং ৯৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

বস্তারের আইজি পি. সুন্দররাজ এই ঘটনাকে মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে একটি "তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, লাগাতার অভিযানের ফলে বস্তার ডিভিশনে নকশাল কার্যকলাপ "প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল" হয়ে গেছে।

তিনি বলেছিলেন, "আজ, ৩১ মার্চ, ২০২৬, আমরা এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে বিজাপুর জেলায় জড়ো হয়েছি। আজ বস্তার ডিভিশনে নকশাল কার্যকলাপ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্যের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। বাকি নকশালদের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আমাদের অভিযান থামবে না।"

আত্মসমর্পণের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "মোট ২৫ জন মাওবাদী ক্যাডার, যার মধ্যে ১২ জন মহিলা, হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে যোগ দিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য এবং আমাদের আগের খবরের ভিত্তিতে মাওবাদীদের কাছ থেকে ৭ কেজি সোনা, ২.৯২ কোটি টাকা এবং ৯৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে... আমরা এই দিনটিকে সমগ্র নকশাল-বিরোধী অভিযানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছি।"

সুন্দররাজ এই ঘটনাকে "মিশন ২০২৬"-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে বাকি ক্যাডাররাও মূল স্রোতে ফিরে আসবে। তিনি বস্তার অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে অবদান রাখার জন্য নিরাপত্তা কর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মাওবাদী-মুক্ত সুকমা জেলা

একইভাবে, মঙ্গলবার সুকমার পুলিশ সুপার (এসপি) কিরণ জি জানান, দুই মহিলা নকশাল আত্মসমর্পণ করার পর সুকমা জেলাকেও সম্পূর্ণ মাওবাদী-মুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। (ANI)