উজবেকিস্তান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘অলি দারাঝালি দুস্তলিক’ (Oliy Darajali Dustlik)-এ ভূষিত করেন। এটি মোদীর ৩৬তম আন্তর্জাতিক সম্মাননা।

উজবেকিস্তান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘অলি দারাঝালি দুস্তলিক’ (Oliy Darajali Dustlik)-এ ভূষিত করেন। এটি মোদীর ৩৬তম আন্তর্জাতিক সম্মাননা। প্রধানমন্ত্রী মোদী উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ এই সম্মাননা পেয়ে গর্ববোধ করার কথা জানান এবং এই সম্মান ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি উৎসর্গ করেন।

মোদী বলেন, “উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।” তিনি ‘দুস্তলিক’ (Dustlik) শব্দটির অর্থ—অর্থাৎ বন্ধুত্ব—তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে ভারতীয়রাও ‘দোস্ত’ (Dost) শব্দটির সঙ্গে পরিচিত, যার অর্থ বন্ধু। মোদী বলেন, ‘দুস্তলিক’ শব্দটি ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্কের মূল আবেগকে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে। তিনি আরও বলেন যে, এই সম্মান কোনও একক ব্যক্তির জন্য নয়, বরং ১৪০ কোটি ভারতীয়র জন্য। নিজ দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে তিনি উজবেকিস্তানের জনগণ, সরকার এবং তাঁর বন্ধু প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার সময় মিরজিয়য়েভ মোদীর নেতৃত্বে ভারতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারত সব ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছে, উচ্চ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বজায় রাখছে এবং বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডিজিটালাইজেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ গবেষণা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে নয়াদিল্লির কণ্ঠস্বর ও প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উজবেকিস্তান এসব অর্জন দেখে আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ভারত ও উজবেকিস্তান ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষ তিনটি ‘সিস্টার-সিটি’ (sister-city) ও ‘সিস্টার-স্টেট’ (sister-state) বা পারস্পরিক সহযোগিতামূলক শহর ও অঙ্গরাজ্য বিষয়ক চুক্তি চূড়ান্ত করছে এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী উজবেকিস্তানের ‘নিউ তাশখন্দ’ এবং ভারতের গুজরাটের ‘গিফট সিটি’ (GIFT City)-র মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব উন্নয়নমূলক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি (best practices) সম্পর্কে জানতে উজবেকিস্তান থেকে কোনও প্রতিনিধিদল এলে ভারত আনন্দিত হবে। প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের লেখা একটি বইয়ের কথাও উল্লেখ করেন মোদী, যেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিভিন্ন প্রকল্প চিহ্নিত করেছেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। মোদী এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আস্থা প্রকাশ করেন যে, যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উভয় পক্ষই দ্রুত অগ্রগতি সাধন করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, আগের রাতে নৈশভোজের সময় দুই নেতার মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে তাঁদের সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যেও ঐকমত্য রয়েছে। নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের একটি সমন্বয় পরিষদ গঠন করবে। এছাড়া, তারা তাদের যৌথ কমিশনকে সচিব পর্যায় থেকে মন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করবে। ভারত ও উজবেকিস্তান যৌথভাবে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনের আয়োজন করবে, যেখানে উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেবেন।