Narendra Modi-Xi Jinping Meeting: ২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের (Eastern Ladakh) গালওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley Clash) সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের পর ভারত-চিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই ঘটনার ছয় বছরেরও বেশি সময় পরে শনিবার ভারত-চিনের রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হল।
KNOW
India-China Ties: প্রায় সাত বছর পর ভারতের মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi) ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Chinese President Xi Jinping)। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit) ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা জোর দিলেন, ভারত ও চিনের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে দুই নেতা ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে (Tianjin) তাঁদের শেষ বৈঠকের পর ভারত-চিন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করেন। বিতর্কিত সীমান্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর দুই দেশ যখন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, সেই সময় এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই নেতা সম্মত হয়েছেন যে ভারত-চিন সম্পর্ককে 'কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি' থেকে দেখা উচিত। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সামলে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উপর জোর
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।' প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেছেন, দুই এশীয় শক্তির সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত তিনটি নীতির ভিত্তিতে, 'পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ।' বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সীমান্ত সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশই সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley Clash) সংঘর্ষের পর পূর্ব লাদাখে (Eastern Ladakh) ভারত ও চিনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ওই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয় এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Actual Control) বরাবর দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।
৭ বছর পর ভারতে জিনপিং
২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম ভারতে এলেন জিনপিং। সেবার চেন্নাইয়ের কাছে মহাবলীপুরমে অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়ে। বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন মোদী ও জিনপিং। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উদ্বেগ দূর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা এবং সরবরাহ-শৃঙ্খল সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থবহ ও পূর্বানুমানযোগ্য বাজারে প্রবেশাধিকারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। দ্বিপাক্ষিক আদানপ্রদানে অগ্রগতির বিষয়টি নোট করে আরও বেশি সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দুই নেতা। বৈঠকে ব্রিকসের ভিতরে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে ভারত ও চিনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জিনপিং। চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশ পরস্পরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, বেজিং নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখতে চায়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশকে আরও বেশি অভিন্ন জায়গা তৈরি করতে এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হন মোদী ও জিনপিং। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে চিনের সমর্থনের জন্য জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান মোদী। একইসঙ্গে ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন সফল করার ক্ষেত্রে চিনের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

