নয়ডা থেকে লখনউ যাওয়ার পথে এক যাত্রী দেখেন, তাঁর ক্যাবচালক প্রচণ্ড ক্লান্ত। এরপর তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে চালককে পিছনের সিটে ঘুমোনোর সুযোগ করে দেন। এই মানবিক কাজের ভিডিও এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।
গাড়িতে উঠেছেন নয়ডা থেকে, যাবেন লখনউ। কিন্তু মাঝপথে যাত্রী দেখলেন, যে চালক গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি নিজেই ক্লান্তিতে ঢলে পড়ছেন। কারণ, তিনি আগের দিন থেকেও টানা গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ডেভিড, যিনি শিব মিশ্র নামেও পরিচিত, নিজেই স্টিয়ারিং ধরে বসলেন। আর ক্লান্ত চালককে পিছনের সিটে নিশ্চিন্তে ঘুমোনোর সুযোগ করে দিলেন। এই অসাধারণ মুহূর্তের একটি ভিডিও এখন ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে, আর শিবের এই মানবিক কাজের জন্য নেটিজেনরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিব নিজেই গাড়ি চালাচ্ছেন এবং তাঁর ভাই পাশে বসে আছেন। আর পিছনের সিটে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন সেই ক্যাবচালক। শিব ভিডিওতে জানান যে, চালক আগের দিন থেকে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে খুব ক্লান্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, "বন্ধুরা, আমি এখন নয়ডা থেকে লখনউ যাচ্ছি। একটা ক্যাব বুক করেছিলাম, কিন্তু চালক দাদা আগের দিন থেকে গাড়ি চালাচ্ছেন বলে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। দেখুন, উনি পিছনে ঘুমোচ্ছেন। আমার মনে হয়, এই ধরনের পরিস্থিতিতে চালকের ওপর রাগ না করে, আমি নিজেই স্টিয়ারিংটা ধরে নিলাম।"
নয়ডার এই যাত্রী আরও বলেন যে, তিনি চাইলে দেরি হওয়ার জন্য অভিযোগ করতে পারতেন বা চালককে জোর করতে পারতেন পুরো রাস্তাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি তা করেননি।
শিব এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিকে কোনও সমস্যা হিসেবে না দেখে, বরং একটা অ্যাডভেঞ্চার হিসেবেই নিয়েছেন।
তিনি যোগ করেন, "শুধু শুধু রাগ করে, 'আমি ক্যাব বুক করেছি, আপনাকেই চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে'—এইসব বলার কোনও মানে হয় না। বরং আমি ভাবলাম, এটাকে একটা অ্যাডভেঞ্চার হিসেবেই নিই আর যাত্রাটা উপভোগ করি।"
দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও
শিবের এই সিদ্ধান্ত দেখে নেটিজেনরা মুগ্ধ, কারণ ক্লান্ত অবস্থায় দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানো খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, একজন ক্লান্ত চালককে জোর করে গাড়ি চালাতে বাধ্য করার চেয়ে তাঁকে বিশ্রাম নিতে দেওয়া অনেক বেশি মানবিক।
ইন্টারনেটে প্রশংসার ঝড়
ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট হওয়ার পরেই প্রশংসার ঝড় ওঠে। ব্যবহারকারীরা ক্যাবচালকের প্রতি শিবের সহানুভূতির প্রশংসা করেন।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "আপনি একজন সোনার মানুষ... দাদা... এভাবেই এগিয়ে যান।"
আরেকজন লিখেছেন, "শিক্ষা এটাই যে অন্যদের প্রতি সদয় হতে হবে। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন!!"
তৃতীয় একজন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, "একদম গ্রিন ফ্ল্যাগ।"
এই ঘটনাটি অনলাইনে গিগ কর্মী এবং ক্যাবচালকদের প্রতি ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ করার বিষয়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রার ক্ষেত্রে যেখানে ক্লান্তি একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
