দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী হলেন জর্জিয়া মেলোনি। এই মাইলফলক ছোঁয়ার জন্য বন্ধু মেলোনিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, এই সাফল্য ইতালির মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার এক নতুন রেকর্ড গড়ল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকার এখন তাদের। এই সাফল্যের জন্য শুক্রবার বন্ধু মেলোনিকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মেলোনিকে শুভেচ্ছা মোদীর
এই মাইলফলক ছোঁয়ার পর মোদী বলেন, মেলোনির এই দীর্ঘ মেয়াদের সরকার আসলে ইতালির মানুষের আস্থারই প্রতিফলন। ভারত-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে মেলোনির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কী বললেন মোদী?
এক্স-এ মোদী পোস্ট করে বলেন, "আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ইতালির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন। এই মাইলফলকটি তার নেতৃত্বের প্রতি ইতালীয় জনগণের বিশ্বাস এবং আস্থার প্রতিফলন।" মোদী আরও যোগ করেন, "ভারত-ইতালি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতেও তার বন্ধুত্ব সহায়ক হয়েছে। আমি আমাদের দুই দেশের মানুষের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য উন্মুখ। আগামী বছরগুলিতে তার ক্রমাগত সাফল্যের জন্য আমার শুভকামনা রইল।"
১৪১৩ দিন ক্ষতায় মেলোনি
জর্জিয়া মেলোনির সরকার টানা ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির সরকারের। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তাঁর সরকার টানা ১,৪১২ দিন ক্ষমতায় ছিল।
ইতালির মতো দেশে এই ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছরে সেখানে ৬৮ বার সরকার বদল হয়েছে। তাই কোনো সরকারের পুরো মেয়াদ টিকে থাকাই সেখানে একটা বড় ব্যাপার। মেলোনি ২০২২ সালের অক্টোবরে ইতালির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
মেলোনির বার্তা
এই রেকর্ডের পর প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ইতালির নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এক্স-এ তিনি লেখেন, "এই স্থিতিশীলতা সম্ভব হয়েছে ইতালির মানুষের জন্য, যাঁরা ২০২২ সালে আমাদের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। এই বিশ্বাসকে আমরা কখনো হালকাভাবে নিইনি এবং ভবিষ্যতেও নেব না।" মেলোনি আরও জানান, তাঁর সরকার কর্মসংস্থান বাড়ানো, বেকারত্ব কমানো, পরিবার ও ব্যবসা ক্ষেত্রে সহায়তা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতালির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলিতে কাজ করেছে। তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বারিতে দলের শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে এখন পর্যন্ত করা কাজ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।


