আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ। তার আগেই 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে কিংবদন্তী এই অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, উত্তম কুমার তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন।
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা সিনেমার 'মহানায়ক' উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ। তার ঠিক আগেই 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানের ১৩৭তম পর্বে তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মোদীর মন কি বাত অনুষ্ঠানে উত্তম কুমার প্রসঙ্গ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তম কুমার ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভা। নিজের অসাধারণ অভিনয় দিয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন এবং মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। মোদী বলেন, "আগামী ৩ সেপ্টেম্বর আমরা কিংবদন্তী অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ পালন করব। একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে তিনি তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন এবং মানুষের হৃদয়ে এক স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।"
বাংলা সিনেমার ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমার
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে তাঁর জন্ম। তবে বাংলা সিনেমার দর্শকরা তাঁকে 'মহানায়ক' নামেই চেনেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন।
মোদীর কথায় উত্তম-সত্যজিতের নায়ক সিনেমা
তাঁর ভাষণে মোদী, উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, সত্যজিৎ রায় তাঁর ১৯৬৬ সালের ছবি 'নায়ক'-এর চিত্রনাট্য উত্তম কুমারকে ভেবেই লিখেছিলেন।
মোদী বলেন, "উত্তম কুমার জি একজন বহুমুখী অভিনেতা ছিলেন যিনি তাঁর অভিনয় দিয়ে মন জয় করে নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন যে সত্যজিৎ রায় 'নায়ক' ছবির পুরো চিত্রনাট্য মহানায়ক উত্তম কুমার জি-কে মাথায় রেখেই লিখেছিলেন। সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন যে তাঁর মধ্যে অসাধারণ আবেগপ্রবণ গভীরতার পাশাপাশি একটা মর্যাদা ছিল। চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করতেন।"
'নায়ক' ছবিতে এক ম্যাটিনি আইডলের জটিল চরিত্রকে যেভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে আজও গণ্য হয়। এই ছবিতে খ্যাতির সঙ্গে আসা মানসিক চাপ, একাকিত্ব এবং আবেগ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন উত্তম কুমার।
উত্তর কুমারের পথ চলা
তবে তারকা হওয়ার পথটা সহজ ছিল না। ১৯৪৮ সালে 'দৃষ্টিদান' ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ফিল্ম কেরিয়ার শুরু হয়। কিন্তু প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। অবশেষে ১৯৫২ সালে 'বসু পরিবার' ছবির মাধ্যমে তিনি সাফল্য পান।
১৯৫৩ সালের ছবি 'সাড়ে চুয়াত্তর' তাঁর কেরিয়ারে একটি বড় মোড় নিয়ে আসে। এই ছবির মাধ্যমেই সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর সেই বিখ্যাত জুটি তৈরি হয়। এরপর এই জুটি 'অগ্নিপরীক্ষা', 'হারানো সুর' এবং 'সপ্তপদী'-র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেন।
উত্তম কুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেন যখন তিনি ১৯৬৭ সালে সেরা অভিনেতার জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' এবং সত্যজিৎ রায়ের 'চিড়িয়াখানা' ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছবি পরিচালনা, সঙ্গীত পরিচালনা এবং প্লেব্যাকও করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর সমাজসেবা এবং দৃঢ় মানসিকতার জন্যও পরিচিত ছিলেন। সিনেমার বাইরেও তাঁর অবদান ছিল অনেক। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে উত্তম কুমার প্রয়াত হন। কিন্তু বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান আজও উজ্জ্বল।


