দিল্লিতে সিবিআই ডিরেক্টর নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক ঝড়। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গোটা প্রক্রিয়াটা "সাজানো" বলে অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এক ঘণ্টার বৈঠকে ৬৯ জন প্রার্থীর নাম দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন করা হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং সিবিআই-এর অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
CBI Director Appointment Controversy: দেশের সবচেয়ে বড় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) নতুন প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলনেতা (LoP) রাহুল গান্ধী এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি কড়া চিঠি লিখেছেন। রাহুলের অভিযোগ, সরকার পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি 'নিয়ম রক্ষার খেলা' বানিয়ে ফেলেছে এবং বিরোধী পক্ষের মতামতকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করছে।

রুদ্ধশ্বাস বৈঠক: ৬০ মিনিট আর ৬৯টা নাম
সিবিআই ডিরেক্টর বাছাইয়ের জন্য যে হাই-প্রোফাইল বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তার বিবরণ কোনও সাসপেন্স থ্রিলারের থেকে কম নয়। রাহুল গান্ধীর দাবি, মাত্র এক ঘণ্টার বৈঠকে তাঁর সামনে ৬৯ জন প্রার্থীর নাম পেশ করা হয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত কম সময়ে এতজন অফিসারের কেরিয়ার এবং রেকর্ড ঠিকভাবে খতিয়ে দেখা কি আদৌ সম্ভব? রাহুলের কথায়, "বিরোধী দলনেতা কোনও রাবার স্ট্যাম্প নন, যাঁকে শুধু শেষে একটা সই করার জন্য ডাকা হবে।"
ফাইল গায়েব নাকি তথ্য গোপন? '360-ডিগ্রি' রিপোর্ট নিয়ে জোর জট
রাহুল গান্ধীর ক্ষোভের সবচেয়ে বড় কারণ হল প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেছেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাঁকে প্রার্থীদের 'সেল্ফ-অ্যাপ্রেজাল' এবং '360-ডিগ্রি' রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, কোনও অফিসারের অতীত রেকর্ড এবং কাজের দক্ষতা বোঝার জন্য এই নথিগুলো অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তিনি কড়া ভাষায় বলেছেন, "ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য দিতে অস্বীকার করার অর্থ হল, সরকার আগে থেকেই নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে। এটা গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মস্করা করা।"
দৌড়ে এগিয়ে এই ৩ 'হেভিওয়েট': কার মাথায় উঠবে সিবিআই প্রধানের তাজ?
বর্তমান ডিরেক্টর প্রবীণ সুদের কার্যকাল ২৪ মে শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন নামের ওপর সিলমোহর পড়ার কথা। এই দৌড়ে আপাতত তিনটি নাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে:
- জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং: বর্তমানে সিআরপিএফ-এর (CRPF) ডিরেক্টর জেনারেল।
- পরাগ জৈন: রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (R&AW)-এর প্রধান।
- শত্রুজিত কাপুর: ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের (ITBP) প্রধান। এই তিনজন অফিসারই গোয়েন্দা বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা সামলানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ। কিন্তু রাহুল গান্ধীর এই ভিন্নমত পোষণের ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই একটা বিতর্কের মেঘ জমেছে।
নাগরিকত্ব বিতর্ক এবং সংসদে 'চুপ' করানোর অভিযোগ
এই নিয়োগ বিতর্ক ছাড়াও রাহুল গান্ধী নিজে আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর 'দ্বৈত নাগরিকত্ব' (ব্রিটিশ নাগরিকত্ব) নিয়ে একটি আবেদনের ওপর এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিলেও বিষয়টি এখনও পুরোপুরি মেটেনি। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে সংসদে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়। সিবিআই ইস্যুতে তাঁর এই নতুন আক্রমণ প্রমাণ করে যে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে নিজের কণ্ঠ আরও জোরালো করতে চান। সিবিআই-এর নতুন প্রধানের নাম যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে, কিন্তু রাহুল গান্ধীর এই 'ভিন্নমতের নোট' (dissent note) এই নিয়োগের পাশে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে।


