আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন শিনা বোরা হত্যা মামলায় আসামি ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়। এদিন আদালতে তিনি দাবি করলেন ২০১২ সালের ২৪ শে এপ্রিল, অর্থাৎ সিবিআই-এর দাবি অনুযায়ী যেদিন শিনা বোড়াকে হত্যা করা হয়েছিল, তার ছয়মাস পরও 'তথ্যগতভাবে' বেঁচে ছিলেন শিনা। তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন পিটার মুখোপাধ্যায়ের পুত্র রাহুল মুখোপাধ্যায়।  

এদিন আদালতে তিনি বলেন, 'তথ্যগতভাবে ২০১২ সালের ২৪ শে এপ্রিল-এর পর রাহুল মুখোপাধ্যায় শিনা বোরার সঙ্গে দেখা করেননি এ কথা বলা ভুল হবে। তথ্যগতভাবে ২০১২ সালের ২৪ শে এপ্রিল-এর পরে শিনা বোরা বেঁচে ছিলেন একথা বললেও ভুল হবে' । সিবিআই এই মামলায় রাহুল মুখোপাধ্যায়ের ফোন থেকে পাওয়া যেসব এসএমএস এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রে দাখিল করেছিল, সেইসব এসএমএস-এর ভিত্তিতেই তিনি এই বিবৃতি দিচ্ছেন বলে জানান ইন্দ্রাণী। তাঁর দাবি সেই এসএমএস ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও রাহুল ও শিনার মধ্যে তিনবার এসএমএস আদান-প্রদান হয়েছে।

আরও পড়ুন - উত্তপ্ত দিল্লিতে কেজরির বাড়ির সামনে জমায়েত, জল কামান দিয়ে পড়ুয়াদের সরাল পুলিশ

তিনি কিছু এসএমএস পড়েও শোনান। জানান, একটি এসএমএস কথোপকথনে দেখা যাচ্ছে রাহুলের ফোন থেকে শিনার ফোনে বার্তা পাঠানো হয়েছে যে তিনি কার পার্কিং-এর জায়গায় আছেন এবং তাঁকে তাড়াতাড়ি আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। শিনার নম্বর থেকে জবাব গিয়েছিল তিনি পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হচ্ছেন। এই ধরণের এসএমএস-এর ভিত্তিতেই ইন্দ্রাণী দাবি করেন খুনের ছয়মাস পরও শিনা বেঁচে ছিলেন।

আরও পড়ুন - পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে দিল্লি পুলিশের, তীব্র তিরস্কার শীর্ষ আদালতের

ইন্দ্রাণী এদিন আদালতে আরও বলেন, এসএমএস চালাচালির ওই সময়টায় তিনি ইংল্যান্ডে ছিলেন। তাই শিনার ফোন থেকে তিনি এই বার্তা পাঠিয়েছিলেন, এই অভিযোগ খাটে না। তিনি জানান, হাজার চারেক এসএমএস পড়ার পর তিনি এই এসএমএসগুলি পেয়েছেন। এর আগে কখনও ২০১২ সালের এপ্রিল-এর পরের বার্তাগুলি তিনি পড়েননি। তাঁরস আরও অভিযোগ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন তিনি হত্যা মামলায় বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন, সেই সময় ওরলির রাহুল নামে জনৈক ব্যক্তি মনোচিকিৎসক ইউসুফ ম্যাচিসওয়ালা-র প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সিডেটিভ কিনেছিলেন। সেই ক্রয়ের বিল তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেছেন ইন্দ্রাণী।

আরও পড়ুন - স্ত্রীকে ৩০০ টুকরো করে টিফিন বক্সে ভরে ছিল সেনার প্রাক্তন ডাক্তার, চরম সাজা দিল আদালত

প্রসঙ্গত, এই একই ম্যাচিসওয়ালা-র প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে ২০১২ সালের কোনও একসময় ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় সিডেটিভ কিনেছিলেন বলে অভিযোগ করেছে সিবিআই। তাদের চার্জশিট অনুযায়ী শিনা-কে হত্যার আগে ওই সিডেটিভ ব্যবহার করে অজ্ঞান করা হয়েছিল। শিনার ভাই মিখাইল বোরা-কেও ইন্দ্রাণী একইভাবে সিডেটিভ দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করেছে তারা।  

এদিন ইন্দ্রাণী অভিযোগ করেন, রাহুল মুখোপাধ্যায় তার নিজের অপরাধ গোপন করতে তাঁর বিরুদ্ধে ভূয়ো প্রমাণ তৈরি করতে সিবিআইকে সহায়তা করছেন।