শনিবার নীতি আয়োগের পরিচালন পরিষদের ষষ্ঠ বৈঠকে অন্য়ান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যোগ দিলেও, পূর্বঘোষণা মতো দেখা গেল না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগেই মমতা বলেছিলেন, নীতি আয়োগের বৈঠকে কাজের কাজ কিছু হয় না বলে তিনি যোগ দেবেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে নীতি আয়োগের মঞ্চকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘুরিয়ে জোর দিলেন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উপরই। এদিন তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিকে একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলার সময়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি একসঙ্গে কাজ করেছে বলেই, এই কাজে পুরো দেশ সফল হয়েছে। এতে করে বিশ্বসমাজে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, এই কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির পারস্পরিক সহযোগিতাই ভারতের উন্নয়নের ভিত্তি। এই ঐতিহ্যই ভারতকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  এই 'প্রতিযোগিতামূলক কোঅপারেটিভ ফেডারেলিজম' জেলা স্তরেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন - ডাক্তারদের জন্য বিশেষ ভিসা, ১০ দেশের কোভিড কর্মশালায় চমকে দেওয়া প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

আরও পড়ুন - নিশানায় বামেদের সাড়ে সাত শতাংশ ভোট, অভিনব পন্থায় কমিউনিস্টদের নিয়ে সতর্ক করল বিজেপি

আরও পড়ুন - এক ধাক্কায় লাদাখে শক্তি বাড়ালো ভারত, সুউচ্চ পাহাড়ে এসে গেল ৩টি কে-৯ বজ্র কামান

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই নামখানার সভা থেকে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার আগে থেকেই বঙ্গ বিজেপির নেতারা বলে নিয়মিত বলে আসছেন বাংলার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যেও বিজেপি সরকারকে প্রয়োজন। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে না পারলে রাজ্যের উন্নয়ন হবে না। এদিন নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ না দেওয়াটাই যেন বেশি করে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটের যে ইতিবাচক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছে, তাতেই স্পষ্ট যে দেশের মানুষ দ্রুত অগ্রগতির পথে এগোতে চান। সময় নষ্ট করতে রাজি নন কেউ। আর দেশের এই মেজাজ তৈরি করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে যুব সমাজ, বলে মন্তব্য করেন নরেন্দ্র মোদী। অগ্রগতির সময় কমিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সরকারগুলির বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা এবং এই ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আইন-কানুনের সংখ্যাও কমিয়ে আনার আবেদন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির সময়ে নীতি আয়োগের পরিচালন পর্ষদের বৈঠক আরও তাত্পর্যপূর্ণ। আত্মনির্ভর ভারত প্রচারণার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে এই প্রচার এমন এক ভারত গঠন করবে যা শুধুমাত্র ভারতের প্রয়োজনই নয়, বিশ্বের চাহিদাও মেটাবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিন বিভিন্ন বিষয় উঠে এলেও কৃষক সমস্যার প্রসঙ্গ আসেনি।