গোটা বিশ্ব যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছিল চিন। কিন্তু আচমকাই ফের সবকিছু ঘেটে গেল। শনিবার রাজধানী বেজিংয়ের বেশকিছু এলাকাকে নতুন করে লকডাউন করার কথা ঘোষণা করেছে চিনা সরকার। এবারও সেই পশু বাজার থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বেজিংয়ের জিনফাদি বাজার থেকে মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতেই এবার কালবিলম্ব না করে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ১১টি আবাসিক এলাকাকে পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এবার কোনও ঝুঁকি নিচে চাইছে না চিনা সরকার, তাই রবিবার থেকেই ফেংতাইয়ের বাসিন্দাদের গণহারে করোনার নুমনা পরীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন।

জানা যাচ্ছে, প্রথম দিনেই ১০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। জিনফাদি বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী ৪৬ হাজার বাসিন্দাদের  সকলেরই নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেংতাই জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক।

তবে কী এসেই গেল দ্বিতীয় ওয়েভ, সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এবার ফের লকডাউনের পথে হাঁটল চিন

করোনা দেশে আসার আগেই পরিস্থিতি আঁচ করেছিলেন মোদী, ফাঁস করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

করোন নিয়ে আরও আশঙ্কার কথা শোনালেন গবেষকরা, ভারতে নভেম্বরে সবচেয়ে তীব্র হবে সংক্রমণ

দীর্ঘ আট সপ্তাহ বাদে গত বৃহস্পতিবার বেজিংয়ের ফেংতাইয়ের এক বাসিন্দার শরীরে প্রথম  করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। শুক্রবার  আরও দু’জনের শরীরে মারণ ভাইরাস পাওয়া যায়। শনিবার নতুন করে ৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৭ জন আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে দেশটিতে। যার র মধ্যে ৩৬ জনই রাজধানী  বেজিংয়ের বাসিন্দা। এর পরেই সকলের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে চিনে কী তাহলে  প্রাণঘাতী ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ল? এই আশঙ্কাতেই ঘুম উড়েছে এখন বেজিংবাসীর। তাই তড়িঘড়ি জিনফাদি বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনা প্রশাসন। এর আগে উহানে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সময় বারবার চিনা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। তাই এবার প্রথম থেকেই সজাগ জিনপিং প্রশাসন।

রবিবার বেজিংয়ের হাসপাতাল সহ মোট ২৪টি  জায়গায় পরীক্ষা কেন্দ্র খুলে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে র‌্যাপিড টেস্ট নয়, ‘নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্ট’ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আরএনএ-র চরিত্র দেখা হয়।  প্রথম দিনেই সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতাল সহ পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে স্থানীয় বাসিন্দাদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণের খবর আসতেই ফেংতাইয়ের জিনফাদি ও আরও একটি বাজার বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে হারবিন ও দালিয়ানসহ অন্তত ১০ টি শহরের বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের বেজিং ভ্রমণ না করারও অনুরোধ জানিয়েছে চিনা সরকার।