Bangkok Flood: ব্যাঙ্কক কথাটা শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে, ঝাঁ চকচকে বহুতল,সুন্দর রাস্তা। কিন্তু সেই ব্য়াঙ্কক এখন জলের তলায়। কোমর সমান জল ঠেলে কাজে যাচ্ছে মানুষ। অর্ধেকেরও বেশি জলে ডুবে রয়েছে সারিবদ্ধ গাড়ি, স্তব্ধ জনজীবন। জারি হয়েছে সতর্কতা।
Bangkok Flood: ব্যাঙ্কক কথাটা শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে, ঝাঁ চকচকে বহুতল,সুন্দর রাস্তা। কিন্তু সেই ব্য়াঙ্কক এখন জলের তলায়। কোমর সমান জল ঠেলে কাজে যাচ্ছে মানুষ। গত দু তিন ধরে একটানা বৃষ্টিতে ব্য়াঙ্কক সহ তাইল্যান্ডের বেশ কিছু প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি। একটানা মুষলধারে বৃষ্টি আর উপচে পড়া খালের জল দুইয়ের দাপটে চরম বিপাকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া অঝোর ধারায় বৃষ্টি চলেছে শনিবার সকাল পর্যন্ত। জলমগ্ন রাস্তায় থমকে গিয়েছে গোটা শহরের স্বাভাবিক জনজীবন। জমা জলে হাবুডুবু খাচ্ছে রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি, যার জেরে তৈরি হয়েছে মারাত্মক যানজট।
জারি বিশেষ সতর্কতা
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই শহরের নোং চোক, সুয়ান লুয়াং ও খান না ইয়াও-এর অন্তত ১৩টি সাব-ডিস্ট্রিক্টকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিট্টিপুন্ট। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে এবং সাহায্য জোরদার করতে পুরো শহরজুড়েই বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে।
জলের তলায় ব্য়াঙ্কক, ভিডিও
কী কারণে বন্যা
তাইল্যান্ড উপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবেই এই টানা বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির যা রেকর্ড, তা কার্যত চোখ কপালে তোলার মতো। শনিবার সকালের মধ্যে শহরের পূর্ব দিকের এলাকাগুলোতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে মিন বুরিতে ২৭৪.৫ মিমি এবং খ্লং সাম ওয়া এলাকায় ২৭৩ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্ব ব্যাঙ্কক এই মুহূর্তে বানভাসি। ল্যাট ক্রাবাং, সাই মাই, নোং চোকের মতো একাধিক এলাকা এক হাঁটু জলের তলায়।
রাস্তায় কোমর সমান জল
সব রাস্তায় জল
শহরের নিকাশি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম সায়েন সায়েপ, ল্যাট ফ্রাও এবং প্রেম প্রাথাকর্নের মতো খালগুলো কানায় কানায় ভরে গিয়ে জল উপচে পড়ছে লোকালয়ে। বেশ কিছু জায়গায় খালের জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে 'লাল সতর্কসংকেত' ছুঁয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাস্তায় জমা জলের গভীরতা সাধারণত ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হলেও ল্যাট ফ্রাও ১২২ নম্বরের মতো নিচু এলাকাগুলোতে তা ২৮.৫ সেন্টিমিটার থেকে প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। ফলে বিভাবদি রংসিৎ, ফাহন ইয়োথিন, সুখুমভিতের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত রাস্তায় ছোট গাড়ি চলাচল একপ্রকার বন্ধ। সমাজমাধ্যমে ভেসে ওঠা বিভিন্ন ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, অর্ধেকেরও বেশি জলে ডুবে রয়েছে সারিবদ্ধ গাড়ি, জরুরি পরিষেবার কর্মীরা আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করছেন।
দেখুন ভিডিও
কী ব্যবস্থা প্রশাসনের
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (BMA) পুরো দমে জল বার করার পাম্পগুলো চালু রেখেছে। শহরের ফ্রা নাখন অংশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১,২০০ ঘনমিটার হারে জল বাইরে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ টানেল, স্লুইস গেট ব্যবহার করে এবং বুয়েং নোং বনের জলাধারে জল ঘুরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, নিকাশি ব্যবস্থা অতিরিক্ত বৃষ্টির চাপ সামলাতে না পারাতেই এই বিপর্যয়। চাও ফ্রায়া নদীর জল অবশ্য এখনও বিপদসীমার ৪০ সেমি নিচ দিয়ে বইছে। তবে প্রতিবেশী ননথাবুরি এবং পাথুম থানি প্রদেশ থেকে গড়িয়ে আসা জল উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। পাথুম থানির রংসিৎ খালের জল বিপদসীমা (১.৮০ মিটার) ডিঙিয়ে যাওয়ায় সেখানেও রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
আপাতত পশ্চিম ব্যাঙ্কক (থোন বুরি অংশ) এবং ঐতিহাসিক রত্তনাকোসিন দ্বীপ এলাকা কিছুটা রেহাই পেলেও আগামী ২৪ ঘণ্টা স্বস্তি মেলার কোনও লক্ষণ নেই। সপ্তাহান্তে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ মিমি পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বজায় রেখেছে থাই আবহাওয়া দফতর। খালের আশপাশের বাসিন্দাদের গাড়ি ও দরকারি জিনিসপত্র উঁচুতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য 'Traffy Fondue' অ্যাপ ও ১৫৫৫ হটলাইন নম্বর চালু রয়েছে। গভর্নর চাদচার্ট নিজে কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি জানান, টানা পাম্প চালিয়ে জল সরানোর লড়াই চলছে।


