বাংলাদেশের রংপুরে হিন্দু পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে তারা। এরাই একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। এরপর তারা প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ওই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল। ফ্রিজ থেকে শসা ও খেজুর বের করে খায়। এরপর স্নানও করে।

বাংলাদেশের রংপুরে হিন্দু পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে তারা। এরাই একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। এরপর তারা প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ওই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল। ফ্রিজ থেকে শসা ও খেজুর বের করে খায়। এরপর স্নানও করে। তারপর পালিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উভয় অভিযুক্তই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (প্রতি) এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।

অভিযুক্তরা ছাদে মাদক সেবন করছিল

পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্ত পাশের একটি বিল্ডিং দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পৌঁছায়। সেখানে তারা ইয়াবা নামক একটি মারাত্মক মাদক সেবন করছিল বলে অভিযোগ। গণপতি ছাদ থেকে শব্দ শুনে উপরে যান। তাঁদের চিনে ফেলবেন এই ভয়ে অভিযুক্তরা গণপতির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ। গণপতির সঙ্গে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা দ্রুত উপরে ছুটে আসেন। অভিযুক্তরা সিঁড়িতেই একটি কাপড় দিয়ে তাঁকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। কী ঘটছে তা দেখার জন্য ওই দম্পতির মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলে সন্দেহভাজনরা তার উপরও হামলা চালায়। ওই দুজন ব্যক্তি বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে এবং একপর্যায়ে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর তারা ওই দম্পতির ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করে, কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল যে সে তাদের শনাক্ত করে ফেলতে পারে। পুলিশের দাবি, প্রিয়ম অভিযুক্তদের একজনের ছোট ভাই অপূর্বের বন্ধু ছিল এবং তারা ভয় পেয়েছিল যে অপূর্ব তাদের পরিচয় ফাঁস করে দিতে পারে। পরিবারের কারও সঙ্গে প্রিয়মের কোনও পূর্ব শত্রুতা বা বিবাদের প্রমাণ পুলিশ পায়নি।

খাবার খায়, স্নান করে

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে বের হয়নি। তারা প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ভেতরেই ছিল। তদন্ত চলাকালে পুলিশ বাড়িটি থেকে খেজুরের বীজ ও শসা পায়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা ওই বাড়িতেই মাদক ও ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খায় এবং তারপর সেখানেই স্নান করেছিল। তদন্ত চলাকালে কিছু চুড়িও পাওয়া যায়, যেগুলোতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই প্রমাণ পুলিশকে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছতে সাহায্য করে। চলে যাওয়ার আগে তারা আলমারি ও ড্রয়ার খুলে কাপড়চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে। বাড়ি থেকে সোনার গয়না লুট করে এবং পরিবারের দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো জলে ডুবিয়ে নষ্ট করে ফেলে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ এমন কিছু প্রমাণও পেয়েছে যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই দুজন আগুনের সাহায্যে একটি সোনার চুড়ি পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। সিদ্ধার্থ মাছের ব্যবসা করে এবং মুগ্ধ স্বর্ণকার। পুলিশ জানিয়েছে, লুট করা সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে পরিবারের চার সদস্যেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতির মরদেহ ছাদে পাওয়া যায়। প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ সিঁড়িতে পাওয়া যায়। প্রিয়মের মরদেহ বাড়ির ভেতরে খাটের নীচে পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরিবারের চারজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আত্মীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। শনিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলে আত্মীয়রা বাড়িতে যান এবং ঘটনাটি জানতে পারেন। উল্লেখ্য, গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। তাঁর মেয়ে এই বছর ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর ডিস্ট্রিক্ট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

রংপুর পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে মামলাটির তদন্ত করছে। তদন্তের পর উভয় সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, ধৃতদের আলাদাভাবে ও একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে তারা দু'জনেই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পুলিশ এখন মামলাটির অন্যান্য দিকও তদন্ত করছে।