আমেরিকা ও মেক্সিকোর বেশ কিছু এলাকায় প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি, তলিয়ে গেছে বহু বাড়িঘর। অ্যারিজোনায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে জরুরি পরিষেবা দল।

আমেরিকা ও মেক্সিকোর বেশ কিছু অংশে প্রবল বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট জলের তলায়, বহু বাড়িঘর ডুবে গেছে। হু হু করে জল বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আমেরিকার অ্যারিজোনা-সহ বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। সেখানে বহু মানুষ নিজেদের বাড়িতেই আটকে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, মেক্সিকো থেকে সামনে আসা বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্যার প্রবল স্রোতে গাড়ি ভেসে সোজা সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে।

এই চরম আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন বন্যা সতর্কতা জারি করেছে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে আরও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ভ্রুকুটি

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রান্তীয় ঝড় 'র‍্যাচেল'-এর জেরে আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর ফলে হড়পা বান ও নদীর জলস্তর বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অ্যারিজোনার বেশ কয়েকটি এলাকায় জল জমার খবর মিলেছে। সেখানে আটকে পড়া মানুষদের নৌকায় করে উদ্ধার করছেন জরুরি পরিষেবার কর্মীরা।

কলোরাডোর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন শহর প্যাগসা স্প্রিংস। উষ্ণ প্রস্রবণ ও স্কি রিসর্টের জন্য পরিচিত এই শহরেও প্রশাসন বড়সড় বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সান জুয়ান নদীর জলস্তর ২১.৯ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। ১৯১১ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই শহরের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, সেবার জলস্তর ছিল ১৭.৮ ফুট। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে।

প্রশাসন শনিবার প্রায় গোটা অ্যারিজোনা জুড়ে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ উটাহ, দক্ষিণ-পশ্চিম কলোরাডো, পশ্চিম নিউ মেক্সিকো এবং ফোর কর্নার্স অঞ্চল-সহ দক্ষিণ নেভাদার বেশ কিছু অংশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করে জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তাঘাট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টুকসনের এক আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের কিছু জায়গায় মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দুই থেকে তিন মাসের সমান বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদদের অনুমান, কিছু এলাকায় চার ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Scroll to load tweet…

মেক্সিকো: লস কাবোসে জলের তোড়ে ভেসে গেল গাড়ি

অন্যদিকে, মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুরের সান হোসে দেল কাবো-সহ বেশ কিছু এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে হড়পা বান দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোস্টা আজুল স্রোতের প্রবল তোড়ে গাড়ি ভেসে যাচ্ছে। সাধারণত শুকনো থাকা খালগুলো এখন রীতিমতো খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে।

Scroll to load tweet…

রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রাস্তাঘাট জলে ডুবে গেছে এবং স্থানীয় নিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। লস কাবোসের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শুকনো নদীর খাত দিয়ে বন্যার জল প্রবল বেগে ছুটে আসছে এবং গাড়িগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে সোজা সমুদ্রে ফেলছে।

হারিকেন 'সাইমন' গত ১২ অক্টোবর মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। সেই সময় প্রবল ঝড়বৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারের বন্যা সেই দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Scroll to load tweet…

ফ্লোরিডাতেও বন্যার খবর

এর পাশাপাশি, ফ্লোরিডার ব্রেভার্ড কাউন্টিতেও প্রবল বৃষ্টির জেরে হড়পা বান দেখা দিয়েছে। আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে এই তুমুল বৃষ্টির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে আরও জল জমার আশঙ্কা করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে নদী ও জলাশয়গুলোর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Scroll to load tweet…