Iran Hits Back: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব’ হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মহম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, হাজার হাজার বছরের পুরোনো এক সভ্যতাকে এ ধরনের হুমকি দিয়ে কাঁপানো যাবে না। ইরান নিজেই ইতিহাস।
আমেরিকার হুমকির জবাবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাবকে উড়িয়ে দিয়ে ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মহম্মদ রেজা আরেফ দেশের ঐতিহাসিক পরিচয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে আরেফ ওয়াশিংটনের হুমকির জবাবে ইরানের গভীর ঐতিহাসিক শিকড়ের কথা তুলে ধরে বলেন, "ইরান ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, ইরান নিজেই ইতিহাস।"
ইরানের জবাব
ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বর্তমান হুমকিগুলো দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না। তিনি বলেন, "যে সভ্যতা হাজার হাজার বছর ধরে শত্রুদের ঝড় আর ষড়যন্ত্র সহ্য করে টিকে আছে, তা ট্রাম্পের প্রস্তর যুগের মতো কথাবার্তায় কেঁপে উঠবে না।" আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তেহরান কী করবে, তারও একটা রূপরেখা দিয়েছেন আরেফ। তিনি ঘোষণা করেন, "শত্রুদের বর্বরতার জবাবে আমরা জাতীয় স্বার্থে অবিচল থাকব এবং ইরানের মহান জনগণের অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর ভরসা রাখব।" তেহরানের এই কড়া জবাব এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াশিংটন তার সামরিক প্রস্তুতি আরও বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক ভয়াবহ বিমান হামলার হুমকি দেন।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
একটি প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের ওপর এমন মাত্রায় বোমা ফেলার নির্দেশ দেবেন যা "তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যেখানে থাকাটাই তাদের প্রাপ্য"। বুধবার ট্রাম্প এই হুমকি আবারও দেন। এর কয়েক মিনিট পরেই মার্কিন যুদ্ধ সচিব (US Secretary of War) পিট হ্যাগসেথ এক্স-এ একটি ছোট পোস্টে লেখেন, "প্রস্তর যুগে ফেরত।" ট্রাম্প তার ভাষণে এই সামরিক অভিযানের সময়সীমাও উল্লেখ করেন। ইরানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমরা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ওদের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানব, ওদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।" তবে এত হুমকির মাঝেও আলোচনার দরজা খোলা থাকার একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, "আলোচনা চলছে" এবং এই সময়ের মধ্যেই সংঘাতের অবসান হতে পারে।
তবে, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ডেডলাইন যত এগিয়ে আসছে, ট্রাম্পের মন্তব্যও তত উস্কানিমূলক হচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' ট্রাম্প ভূ-রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এক পোস্টে লেখেন, "আজ রাতে একটা গোটা সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই হবে।" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ এবং ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, এমন খবরের মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
এই ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তার পাশাপাশি তিনি তেহরানে সরকার পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, "এখন যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ এবং পুরোপুরিভাবে সরকার পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে ভিন্ন, বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র মানসিকতার মানুষরা আসবেন, হয়তো বৈপ্লবিক কিছু ভালো হতে পারে, কে জানে?"
ট্রাম্প এই উত্তেজনাকে কয়েক দশকের শত্রুতার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "আমরা আজ রাতে জানতে পারব, বিশ্বের দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর এবার অবসান ঘটবে।"
বার্তার শেষে তিনি ইরানের জনগণের জন্য লেখেন, "ঈশ্বর ইরানের মহান জনগণের মঙ্গল করুন!" এদিকে, রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) ডেডলাইনের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। এই চরম হুঁশিয়ারি মূলত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি তা না করে, তবে একযোগে ইরানের "প্রতিটি" বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতুতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হবে।
সোমবার তিনি এই হুমকি আরও তীব্র করে বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে এই সব পরিকাঠামো "জ্বলন্ত, বিস্ফোরিত অবস্থায় এমনভাবে ধ্বংস করা হবে যা আর কখনও ব্যবহার করা যাবে না"। হোয়াইট হাউসের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি যোগ করেন, "পুরো দেশটা এক রাতেই শেষ করে দেওয়া যেতে পারে, আর সেই রাতটা হয়তো কাল রাতেই হবে।"
এই সময়টাকে "গুরুত্বপূর্ণ" উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছতে তেহরানকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সময় বাড়ানোর অনুরোধের পর তিনি ১০ দিনের একটি উইন্ডো দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, "ওদের কাছে কাল পর্যন্ত সময় আছে। এখন দেখা যাক কী হয়... এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা ওদের কাল রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এরপর ওদের আর কোনো সেতু থাকবে না। কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট থাকবে না। প্রস্তর যুগ।" এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের পরিকাঠামো ধ্বংস এড়ানোর এটাই শেষ সুযোগ।


