ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে চাঞ্চল্য। মার্কিন-ইজরায়েল হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ইরানের সরকারি টিভির। খবর পড়ার সময় লাইভ অনুষ্ঠানেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সঞ্চালক। এরপরেই ইরানের IRGC 'সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলা'র হুমকি দিয়েছে। 

Ali Khamenei Death Iran TV Anchor Crying: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই সাংঘাতিক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে যে, মার্কিন-ইজরায়েল হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। এই খবরটি সরকারি টিভিতে পড়ার সময়েই, সরাসরি সম্প্রচারে সঞ্চালকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক সঞ্চালক রাগে ফেটে পড়ে বলেন - "ট্রাম্পকে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কখনও চোকাতে হয়নি... বদলা আসছে!"

Scroll to load tweet…

মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর ইরান কি 'সবচেয়ে ভয়ঙ্কর' জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে?

রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা (অপারেশন এপিক ফিউরি/লায়ন্স রোর) চালানোর পরেই এই ঘটনা ঘটেছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) টেলিগ্রামে পোস্ট করে জানিয়েছে, "ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক অভিযান যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে।" এই बयान থেকে স্পষ্ট যে, ইরান বড়সড় কোনও প্রত্যাঘাতের পরিকল্পনা করছে—তা মিসাইল, ড্রোন বা ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলাও হতে পারে।

Scroll to load tweet…

'বদলা আসছে' - লাইভ টিভিতে কেন কান্নায় ভেঙে পড়লেন সঞ্চালক?

সরকারি টিভিতে এই ঘোষণা করার সময় সঞ্চালকরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একজন সঞ্চালক বলেন - "বদলা আসছে!" এই ধরনের ভাষা থেকে বোঝা যায় যে, এই ঘটনাকে শুধু একটি সামরিক হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং একে জাতীয় এবং ধর্মীয় অপমান হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে দেশে একতা বাড়লেও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও চরমে উঠবে।

Scroll to load tweet…

৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক: শিয়া প্রথায় 'আরবাইন'-এর গুরুত্ব কী?

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ইরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শিয়া ইসলামে মৃত্যুর ৪০তম দিন, অর্থাৎ 'আরবাইন'-এর একটি বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। এই সময় সরকারি ভবনগুলিতে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং স্মরণ সভার আয়োজন করা হবে। এই ঘটনাকে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Scroll to load tweet…

ক্ষমতার প্রশ্ন: পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?

১৯৮৯ সাল থেকে দেশের নেতৃত্ব দেওয়া খামেনেই ছিলেন বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল - তাঁর জায়গায় কে আসবেন? নিয়ম অনুযায়ী, একটি ধর্মীয় পরিষদ পরবর্তী নেতা নির্বাচন করে। কিন্তু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বৈঠক এবং সহমত তৈরি করা বেশ কঠিন হতে পারে। আলোচনা চলছে যে, ভবিষ্যতে ক্ষমতা কার হাতে বেশি থাকবে - মৌলবিদের নাকি রেভোলিউশনারি গার্ডের?

Scroll to load tweet…

অশান্তি কি বাড়বে? কেন নিরাপত্তা বাড়ানো হল?

তেহরান-সহ বড় শহরগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই আবেগঘন পরিস্থিতি এবং বাইরের হুমকি একসঙ্গে মিলে দেশে অশান্তি তৈরি করতে পারে। সরকারের নজর এখন দুটি বিষয়ের ওপর - দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বাইরের শক্তির জবাব দেওয়া।

মধ্যপ্রাচ্য কি নতুন আগুনের দিকে এগোচ্ছে?

খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর এবং 'সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপারেশন'-এর হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ৪০ দিনের শোক, বদলার শপথ এবং পরবর্তী নেতা কে হবেন তা নিয়ে তৈরি হওয়া সাসপেন্স - এই তিনটি বিষয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।