Iran Kuwait Clash News: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনার আবহে কুয়েত এবং তার আশেপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Iran Kuwait Clash News: আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল। কুয়েত এবং তার সংলগ্ন এলাকায় জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সেই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, উত্তর কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার একটি সেনা ঘাঁটিতে এই বিস্ফোরণ হয়েছে।
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে?
এই বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইরান ও কুয়েতের সীমান্তবর্তী ইরাকের বসরা প্রদেশে জাহাজে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার পর গোটা অঞ্চলে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সমুদ্রপথে পরপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর এই হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক হামলার কথা তিনি বিবেচনা করেছিলেন তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা এবং তা তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত, এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার নিজের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে তুলে ধরেন। 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প জানান, সোমবার বিকেলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।
তবে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। এর মাধ্যমে তিনি আসন্ন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার উপর নতুন করে জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, "আমরা আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল বিকেলে এটি শুরু হবে এবং দেখা যাক কী হয়।" তিনি আরও বলেন যে, আরও সংঘাতের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই তাঁর কাছে বেশি পছন্দনীয়। তবে আলোচনাটি কোথায় হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। আলোচনা নিয়ে আশা ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা করতে পারলে খুশিই হব। এতে অনেক জীবন বাঁচবে। কূটনৈতিক সমাধানের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো সম্ভব হবে, কারণ সবকিছু পুনর্নির্মাণ করতে অনেক অনেক বছর লেগে যাবে।”
পরিকল্পিত সামরিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ইরান চায়নি আমরা এটা করি। তিনি আরও জানান যে, সৌদি আরবও কূটনীতির পক্ষেই ছিল, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি চুক্তি খুব শীঘ্রই হতে যাচ্ছে। চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য ইরানের উপর কোনও সময়সীমা বা ডেডলাইন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমি বরং একটি চুক্তিই করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কারণ মানুষ মারা যায়, অনেক মানুষ মারা যায়, আর আমরা সেটা চাই না।"
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


