Asian Games 2026: হাতে আর মাত্র কটা দিন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি ও নাগোয়া প্রদেশে শুরু হতে চলেছে এশিয়ান গেমসের আসর। কিন্তু এশিয়ার অলিম্পিক গেমস শুরুর আগে বড় সমস্যা। গত ৬০ বছরে নাগোয়া-য় এত বৃষ্টি হয়নি। তৈরি হয়েছে আশঙ্কা, গেমস হবে তো!

Asian Games 2026: হাতে আর মাত্র কটা দিন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি ও নাগোয়া প্রদেশে শুরু হতে চলেছে ২০তম এশিয়ান গেমসের আসর। কিন্তু এশিয়ার অলিম্পিক গেমস শুরুর আগে বড় সমস্যা। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে জাপানের অন্যতম প্রধান শহর নাগোয়া। মাত্র এক ঘণ্টায় ১০৪ মিলিমিটারের রেকর্ড পরিমাণ মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবে গেছে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় নাগোয়া ও তার আশপাশের অঞ্চলে সর্বোচ্চ স্তরের বৃষ্টিপাত ও বন্যা সতর্কতা জারি করেছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর। গত ৬০ বছরে নাগোয়া-য় এত বৃষ্টি হয়নি।

জলের তলায় এশিয়ান গেমসের আয়োজক শহর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নাগোয়ার মূল সড়কগুলো জলে ভেসে গেছে, সচল যাতায়াত ব্যবস্থা একপ্রকার স্তব্ধ। পাতাল রেল স্টেশন, বাণিজ্যিক এলাকা এবং নিচু বাড়িঘরগুলোতে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে নিরাপদ উঁচুতে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেখুন নাগোয়ার বন্যা পরিস্থিতি

Scroll to load tweet…

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আসন্ন এশিয়ান গেমস

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ক্রীড়াজগতেও বড় ধরনের দুশ্চিন্তার মেঘ ডেকে এনেছে। কারণ, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই নাগোয়া শহরেই বসতে চলেছে 'এশিয়ান গেমস ২০২৬'-এর আসর। এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ক্রীড়াযজ্ঞ শুরু হতে হাতে মাত্র কয়েক দিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে শহরের এই জলমগ্ন দশা গেমসের পরিকাঠামো, ভেন্যু এবং অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, মূল স্টেডিয়াম ও ক্রীড়াঙ্গনগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে। তবে গেমস শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই হঠাৎ বানভাসি পরিস্থিতি আয়োজকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

এশিান গেমস ২০২৬

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক আসরে এশিয়ার মহাদেশের ৪৫টি দেশের হাজার হাজার সেরা অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমার পর এবার তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমস আয়োজন করছে জাপান। বিশাল ব্যয় কমাতে ও পরিবেশ রক্ষা করতে আয়োজকরা মূলত বিদ্যমান পরিকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক পরিবেশবান্ধব আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। অলিম্পিকের মূল ইভেন্টগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাও স্থান পেয়েছে এই প্রতিযোগিতায়।

টোয়াটার শহর নাগোয়া

জাপানের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত নাগোয়া প্রদেশ অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, শিল্প ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র। টোকিও এবং ওসাকার মাঝামাঝি অবস্থিত আইচি প্রশাসনিক অঞ্চলের এই রাজধানী শহরটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আধুনিক নগরজীবনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। জাপানের শিল্প ও প্রযুক্তির হৃদপিন্ড: নাগোয়াকে বলা হয় জাপানের শিল্প বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র। বিখ্যাত অটোমোবাইল ব্র্যান্ড ‘টোয়োটা’ (Toyota)-র সদর দপ্তর এবং প্রধান উৎপাদন কারখানা এই অঞ্চলেই অবস্থিত। এছাড়া অ্যারোস্পেস, সিরামিক এবং উন্নত রোবোটিক্স শিল্পের জন্য নাগোয়া বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান।