- Home
- World News
- International News
- Oil Crisis: হাতে মাত্র ৪ দিন! সৌদির পাইপলাইন মেরামতি না হলে বিশ্বজুড়ে শুরু হতে পারে তেলের হাহাকার
Oil Crisis: হাতে মাত্র ৪ দিন! সৌদির পাইপলাইন মেরামতি না হলে বিশ্বজুড়ে শুরু হতে পারে তেলের হাহাকার
ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই রপ্তানির জন্য তাদের তেল ফুরিয়ে যেতে পারে। রয়টার্সের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তেলের জোগানে ৪ শতাংশ ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তেলের সংকটে পড়বে বিশ্ব!
সৌদি আরবের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত এই পাইপলাইন দ্রুত চালু না হলে, কয়েকদিনের মধ্যেই সৌদি আরবের রপ্তানিযোগ্য তেলের ভান্ডার শেষ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের জোগানে প্রায় ৪ শতাংশ ঘাটতি হতে পারে, যা ইতিমধ্যেই রেকর্ড ছুঁয়ে থাকা জ্বালানির দামকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

সৌদির তেলের পাইপ লাইনে ড্রোন হামলা
গত শুক্রবার ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তবে এই হামলায় ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে বা কবে নাগাদ পাইপলাইনটি আবার চালু হবে, সে বিষয়ে রিয়াদ এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পাইপ লাইন
বিগত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব এই পাইপলাইনটিকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছিল। আরব উপদ্বীপের ওপর দিয়ে যাওয়া এই পাইপলাইনটি লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।
৪০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ হতো
রিপোর্টে বলা হয়েছে, "বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক এই দেশটি পাইপলাইনটি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লক্ষ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত, যা বিশ্বের মোট জোগানের প্রায় ৪ শতাংশ।"
মজুত তেলে চলবে ৪ দিন!
পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে যে পরিমাণ তেল মজুত আছে, তা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালানো সম্ভব। সৌদি আরবের রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
তেলের ভাণ্ডারে হাহাকার
চতুর্থ একটি সূত্র জানিয়েছে, মিশরীয় বন্দর আইন সুখনা এবং সিদি কেরিরেও সৌদি আরবের কিছু তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আরও কয়েকদিন গ্রাহকদের জোগান দেওয়া সম্ভব।
তেল মজুতের পরিমাণ
শিল্পক্ষেত্রের অনুমান অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দরের মজুত ক্ষমতা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল। অন্যদিকে, আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরে যথাক্রমে ১৮ মিলিয়ন ও ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রাখা যায়।
রয়টার্স সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, "মজুত ভান্ডার পুরো ভর্তি নেই এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন পুনরায় চালু না হলে এই তেল শেষ হয়ে যাবেই।"
ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ লাইন মেরামতিতে কতদিন?
পাইপলাইনটি সারাই করতে কতদিন লাগবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সূত্র বিভিন্ন রকম তথ্য দিচ্ছে। একটি সূত্রের মতে, এতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আবার অন্য একটি সূত্র বলছে, সারাইয়ের কাজ চলার সময়েই আংশিকভাবে পাম্পিং শুরু করা যেতে পারে, ফলে পাইপলাইনটি আরও তাড়াতাড়ি চালু হতে পারে।
তেল সরবরাহ পড়তির দিকে
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগর দিয়ে তেলের জোগান কমে যাওয়ায় আগস্ট মাসে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
IEA-এর আশঙ্কা, এই বছর বিশ্বজুড়ে তেলের জোগান প্রতিদিন ৫৭ লক্ষ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যারা আগে থেকেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল, তারা শুক্রবার লোহিত সাগরের মুখে একটি দ্বীপ দখল করে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি
যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। শিল্পক্ষেত্রের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এই পরিমাণ কমে ৬ থেকে ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব ওপেক-কে জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে ফেব্রুয়ারিতে যেখানে তাদের তেল উৎপাদন ছিল দৈনিক ১০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল, তা আগস্টে কমে ৬.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।

