নির্দিষ্ট কিছু দেশের (যেমন আমেরিকা, ব্রিটেন) মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা থাকলে ভারতীয় নাগরিকরা এবার থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত উজবেকিস্তানে ভিসা ছাড়াই থাকতে পারবেন। তবে এর জন্য সঙ্গে একটি কনফার্মড রিটার্ন বা অন্য দেশে যাওয়ার টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক।
এবার ভারতীয়দের জন্য উজবেকিস্তান ভ্রমণ আরও সহজ হল। তাসখন্দে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক ঘোষণায় জানিয়েছে, যে সব ভারতীয় নাগরিকের কাছে নির্দিষ্ট কিছু দেশের বৈধ মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা রয়েছে, তাঁরা ৩০ দিন পর্যন্ত উজবেকিস্তানে ভিসা ছাড়াই থাকতে পারবেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ভিসার পাশাপাশি যাত্রীর কাছে কনফার্মড রিটার্ন টিকিটও থাকতে হবে।
ভারতীয়দের জন্য নতুন ভিসা-মুক্ত নিয়ম
তাসখন্দের ভারতীয় দূতাবাস এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে জানিয়েছে, "যে সব ভারতীয় নাগরিকের কাছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, শেনজেনভুক্ত দেশ, ব্রিটেন এবং আমেরিকার বৈধ মাল্টিপল-এন্ট্রি বিজনেস বা টুরিস্ট ভিসা আছে, তাঁরা উজবেকিস্তানে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকতে পারবেন।"
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, "যাত্রীর কাছে নিজের দেশে ফেরার অথবা অন্য কোনও তৃতীয় দেশে যাওয়ার জন্য একটি কনফার্মড এয়ার টিকিটও থাকতে হবে।"
যাঁদের কাছে এই নির্দিষ্ট দেশগুলির ভিসা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে? দূতাবাস জানিয়েছে, অন্য ভারতীয় নাগরিকদের উজবেকিস্তানের ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম মেনেই ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এই নতুন সুবিধার ফলে যোগ্য ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং পর্যটকরা আগে থেকে উজবেকিস্তানের ভিসা না নিয়েই সে দেশে যেতে পারবেন। শর্ত শুধু একটাই— নির্দিষ্ট দেশগুলির বৈধ মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা এবং কনফার্মড রিটার্ন টিকিট থাকতে হবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার পদক্ষেপ
গত মাসেই উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিইয়োয়েভ ভারতীয়দের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-ফ্রি ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক আদান-প্রদান বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু'দিনের তাসখন্দ সফরের সময় দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর মিরজিইয়োয়েভ এই ঘোষণা করেন।
বাড়তে থাকা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক
ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির কথা তুলে ধরে উজবেক প্রেসিডেন্ট ভারতকে "নির্ভরযোগ্য কৌশলগত সঙ্গী" (reliable strategic partner) হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য, যৌথ উদ্যোগ এবং যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন।
মিরজিইয়োয়েভ বলেন, "ভারত আমাদের নির্ভরযোগ্য কৌশলগত সঙ্গী। গত বছর প্রথমবারের জন্য আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যৌথ উদ্যোগের সংখ্যা সাতগুণ বেড়েছে। এখন আমাদের দুই দেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ১৪টি সরাসরি ফ্লাইট চলে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ভারতীয়দের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-ফ্রি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ, পর্যটন এবং ব্যবসা বাড়াতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই উজবেকিস্তান সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো।
১৯৯২ সালের ১৮ মার্চ তাসখন্দে ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। উজবেকিস্তানের স্বাধীনতার পর যে দেশগুলি তাদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০১১ সালে দুই দেশের সম্পর্ক "কৌশলগত অংশীদারিত্ব" (Strategic Partnership)-এর পর্যায়ে উন্নীত হয়।
আশা করা হচ্ছে, এই নতুন ভিসা-মুক্ত ব্যবস্থা ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করবে এবং পর্যটন, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে।

