পুজোর আমেজ কাটতে না কাটতেই কলকাতায় ঝুপ করে নেমে আসে ঠান্ডা। শীতের মুরশুমে গা ভাসাতে কাছে পিঠে কিংবা দূরে কোথাও পাড়ি দেওয়ার পালা। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদল ঘটে খাদ্যতালিকার। প্রাতরাশে যুক্ত হয় কমলালেবু, নলেনগুড় আর ফ্রুটকেক। বড়দিন যতই এগিয়ে আসে ততই চাহিদা বাড়তে থাকে এই কেকের। বেকারিতে তড়ঘড়ি শুরু হয় প্রস্তুতি। তাই ডিসেম্বর পড়তে না পড়তেই মধ্যবিত্তের বাজারের তালিকাতে যুক্ত হয়ে যায় একটা উপাদান, বড়ুয়ার কেক।

আরও পড়ুনঃ বছর পড়লেই শুরু হবে কলকাতা বইমেলা, বইপ্রেমীদের মন ভরাবে এবার রাশিয়ান সাহিত্য়

মধ্যকলকাতায় দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে এভাবেই মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফুঁটিয়ে এসেছে বড়ুয়া বেকারী প্রাইভেট লিমিটেড। সাধারণত ব্রেড বিক্রেতা হিসেবেই সারা বছর পসার জমিয়ে থাকে এই সংস্থা। তবে জিসেম্বর আসতেই শুরু হয়ে যায় কেকে তৈরির প্রস্তুতি। বড়ুয়া বেকারির ডিরেক্টর অসীম বড়ুয়া জানান, কেবলমাত্র ২০দিনই মেলে এই কেকের দেখা। তৈরি শুরু হয় ১০ ডিসেম্বর থেকে, এই স্বাদ মিলবে ১ জানুয়ারী পর্যন্ত। 

আরও পড়ুুনঃ রোবট রাজ্য়ে লেজার ভূত, নতুন রাইড আনল নিকোপার্ক

সাধ্যের মধ্যে সাবেকি স্বাদ। রাজ্য জুড়ে বড়দিনে মেলে বড়ুয়ার কেক। ইতিমধ্যেই এই কেক পাড়ি দিয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলায়, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদা, বর্ধমান প্রভৃতি জায়গায়। উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের পাতেও জায়গা করে নেয় বড়ুয়া। কিছুটা মেশিন কিছুটা হাতেই সযত্নে বানিয়ে তোলা হয় বড়ুয়াতে কেক। এক পাউন্ড থেকে দু পাউন্ড ওজনের কেকের দেখা মেলে এখানে। বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান  খোঁজ, কিংবা ফ্যাক্টরিতে লাইন দিয়ে সংগ্রহণ, এ কেক ব্যাগজাত করতে ভোলে না কেউ। আর সেই আবেগের কথা মাথায় রেখেই আজও দাম বাড়ল না বড়ুয়া কেকের, কেক মিলবে মাত্র ১১৫ টাকা থেকে, আর সর্বাধিক দাম ২৩০ টাকা।