এনআরসি নিয়ে নিজের অবস্থানেই অনড় থাকলেন তৃণমূলনেত্রী। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নাম না করে পরিস্থিতির জন্য় বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা।

সংখ্যাটা অর্ধেকের কম হলেও হাহাকার কমেনি এতটুকুও। আগে এনআরসি তালিকায় বাদ পড়েছিলেন অসমের ৪০ লক্ষ মানুষ। চূড়ান্ত তালিকার পর সেই তালিকাটা এসে দাড়িয়েছে ১৯ লক্ষে। যদিও এই তালিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে খোদ বিজেপি। নিজভূমে দাঁড়িয়ে বিজেপির মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন,কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জায়গায় এনআরসি থেকে বাদ পড়ার সংখ্যা কম। সেখানে অসমিয়া অধ্যুষিত জেলায় এই সংখ্যাটা বেশি। তাই সব অনুপ্রবেশকারী যে চিহ্নিত হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে্ না। তবে চূড়ান্ত তালিকার পরও এই মুহূর্তে অসম সরকার কাউকে বিদেশি বলছে না। যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তালিকায় আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিন বা চার মাস সময় পাবেন বাদ পড়ারা।

আরও পড়ুন :অসমে এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হল , নাম নেই ১৯ লক্ষ মানুষের

নাম নেই আরও পড়ুন :শুনেই কুয়োয় ঝাঁপ বৃদ্ধার, ভুতুরে এনআরসি তালিকা দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বাসিন্দারা

বিজেপির এই রক্ষনাত্মক ভঙ্গি দেখেই রাজধানীর রাজনীতিকরা বুঝতে পেরেছেন, এনআরসি নিয়ে অসমে আর আক্রমণাত্বক পথে হাঁটতে চাইছে না বিজেপি। উল্টে নিজেরাই জানিয়েছেন,এনআরসির তালিকা থেকে বাদ পড়াদের আবেদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য় করবে গেরুয়া ব্রিগেড। মূলত, রাজ্যে এনআরসি ইস্যু যাতে রাজনৈতিক ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন না ধরায় তা নিয়ে চিন্তায় সর্বানন্দ সনোয়ালের দল। 

এখানেই বিজেপিকে টুইটে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। মমতা লিখেছেন,'এনআরসি থেকে যারা রাজনৈতিক লাভ তোলার চেষ্টা করছিল তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছে এনআরসি বিপর্যয়। এদের দেশের কাছে অনেক কিছুর জবাব দিতে হবে। এই ঘটনা তখনই ঘটে, যখন কেউ খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এই ধরনের কাজ করে। বৃহত্তর সমাজের ভালোর জন্য কেউ এই কাজ করে না। '
এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি মমতা। অসমে বাঙালিদের উদ্দেশ্য়ে তিনি জানান,'এই ধরনের প্রক্রিয়ার জাঁতাকলে যারা পিষ্ট হচ্ছেন, তাঁদের পাশে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে অসমের বাংলাভাষী ভাইবোনেদের পাশে তাঁর মন পড়ে রয়েছে।'

আরও পড়ুন :এনআরসি নিয়ে এখনই হতাশ বিজেপি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবার অন্য পথ, ইঙ্গিত দিলেন মন্ত্রী

আরও পড়ুন :এনআরসি নিয়েও উস্কানি, নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ফের গুরুতর অভিযোগ ইমরানের
অসমের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৯,০৬,৬৭৫ জনের নাম মূল তালিকায় স্থান পায়নি। তবে যাঁদের নাম নাগরিকপঞ্জীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাঁদের এখনই বিদেশি বলে ঘোষণা করা হবে না। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। এনআরসি-তে যাদের নাম নেই তাঁরা সকলেই ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ইতিমধ্যেই আবেদন করার সময় ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।