প্রায় ১০ কোটি রাজ্য়বাসীর জন্য় পড়ে রয়েছে ৪০ টা করোনা কিট। পশ্চিমবঙ্গে করোনার প্রকোপ রুখতে এটাই সম্বল স্বাস্থ্য় দফতরের। খোদ সেই বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সম্প্রতি করোনা নিয়ে নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠকে এই কথা বলেন তিনি। 

দমদমে করোনায় মৃতের সহকর্মী হাসপাতালে, ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে অফিস

করোনা রুখতে ইন্ডিয়ান  সায়েন্স অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর-এর ওপরই ভরসা রাখছে দেশবাসী। তাদের গাইডলাইন মেনেই ঠিক হচ্ছে  করোনা রোখার পন্থা। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, নিত্য়দিন করোনা সন্দেহে একাধিক মানুষকে কোয়রান্টিনে যেতে হচ্ছে। অথচ চাইলেও করোনা পরীক্ষার জন্য় পর্যাপ্ত মেডিকেল কিট পাচ্ছে না রাজ্য়বাসী। সোমবার বিজেপির প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই কথাই বলেন মুখ্য়মন্ত্রী। 

আপাতত স্বস্তি, দমদমের মৃতের পরিবারে করোনা নেগেটিভ.

নবান্নে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার  মুখ্য়মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন, আইসিএমআর-এর সচিব বলরাম ভার্গভ জানিয়েছেন, করোনা কিটের কোনও অভাব  নেই। তাহলে রাজ্য়ের তরফে কেন করোনা কিট নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যার উত্তরে মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, এখনও পর্যন্ত  করোনা পরীক্ষায় মোট ৯০টি মেডিকেল কিট পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। যার মধ্য়ে এখন কেবল ৪০ টি কিটই রয়েছে।

আরও দুই করোনা আক্রান্ত রাজ্য়ে, সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯.

এই বলেই থেমে থাকেননি মুখ্য়মন্ত্রী। কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ উজাড় করে দিয়ে তিনি বলেন, ভার্গভ কী বলেছেন জানি না। কিন্তু আমি তো সবার সামনেই সরকারের থেকে কতটা কী পেয়েছি তা বলছি। এর মধ্য়ে রাজ্য সরকারের লুকোনোর কিছু নেই। উল্টে তাঁর অভিযোগ, আইসিএমআর কেবল করোনার উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করতে বলছে। রাজ্য়ের সাম্প্রতিক করোনার ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই করোনার উপসর্গ  দেখা দিচ্ছে না মানব শরীরে। সেক্ষেত্রে করোনা কিট দিয়ে বার বার পরীক্ষার পরই মিলতে পারে ফল। কিন্তু ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ-এর গাইডলাইন অনুযায়ী তা করতে পারবে না রাজ্য় সরকার। 

জানা গিয়েছে, রাজ্য়ে প্রথম করোনা আক্রান্ত তরুণের দেহেও প্রথমে ভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দরেও তার শরীরে জ্বর ধরা পডে়নি।